উত্তর ২৪ পরগনা: একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে অপরাধের জন্য যোগ্য শাস্তি। গাইঘাটার ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’। মৃত্যুর পর সকাল থেকেই হাসপাতালে ছিলেন তাঁর বাবা-মা। দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ নিয়ে যাওয়ার সময় ছেলেকে শেষবার দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। অন্য দিকে, বাবার মুখে অন্য সুর। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, পুলিশের পদক্ষেপে তিনি খুশি। গাইঘাটার চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালের বাইরে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রহ্লাদকে। এলাকার একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করে বলে অভিযোগ। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় পালানোর চেষ্টা করেন প্রহ্লাদ। এমনকী, পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে তিন রাউন্ড গুলি চালান বলেও অভিযোগ। পাল্টা আহত হন অভিযুক্তও। তাঁর বাঁ পা ও বুকে সবমিলিয়ে তিনটি গুলি লাগে। পরে তাঁকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
তারপর থেকেই হাসপাতালে ছেলের দেহের পাশে ছিলেন প্রহ্লাদের বাবা-মা। মঙ্গলবার দুপুরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। দেহ বাইরে বের করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। ছেলের দেহ দেখে তিনি বলেন, “আমার কথা একবারও ভাবলি না! এ কী অন্যায় করলি বাবা!” তবে ছেলের অপরাধের অভিযোগকে অস্বীকার না করে তিনি বলেন, “মা হিসেবে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে খুশি।” কথাগুলি বলতে বলতেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
অন্য দিকে, প্রহ্লাদের বাবা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “পুলিশের পদক্ষেপে তিনি খুশি। যা হয়েছে, ঠিক হয়েছে।” জানা গিয়েছে, বৈকুণ্ঠপুর বাজারে বাবা-ছেলের দুটি সেলুন ছিল বলে। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই ছেলের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের পর গ্রেফতারি, পুলিশি হেফাজত এবং শেষে এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Leave a comment