কলকাতা: কালীপুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। অমাবস্যার রাতে অশুভ শক্তির বিনাশের লক্ষ্যে মা কালীর আরাধনা করা হয়। কার্ত্তিক মাসের অমাবস্যা তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা নামে পরিচিত। কিন্তু এ দিন শুধুমাত্র মা কালীর পুজো হয় না। বহু বাড়িতে পুজো করা হয় দেবী অলক্ষ্মীরও। কয়েকদিন আগেই পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। কিন্তু তারপর অমাবস্যায় ফের লক্ষ্মীর আরাধনা?
পুরাণ অনুযায়ী, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সময় দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে অলক্ষ্মীরও আগমন ঘটে। লক্ষ্মীকে সৌভাগ্য, সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে অমঙ্গল, দুর্ভাগ্য ও দারিদ্র্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় অলক্ষ্মীকে। তাই দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজোর দিন অলক্ষ্মীর পুজো করে তাঁকে বিদায় জানানোর রীতি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে সংসার থেকে অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে সুখ-সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করা হয়।
পুরাণ কী বলছে?
পুরাণে অলক্ষ্মীর জন্ম নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। কোথাও বলা হয়, তিনি দেবী লক্ষ্মীর দিদি। আবার কোনও কোনও কাহিনিতে প্রজাপতি ব্রহ্মার শরীর থেকে দুই বোনের জন্মের কথা পাওয়া যায়। তবে অলক্ষ্মীর জন্ম নিয়ে সমুদ্রমন্থনকে ঘিরে কাহিনিটি বেশি পরিচিত। প্রচলিত আখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাবের আগে উঠে এসেছিলেন অলক্ষ্মী। এই কারণেই দুই বোনের স্বভাব ও পরিচয়কে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
বিভিন্ন ধর্মীয় আখ্যানে অলক্ষ্মীকে অশুভ প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু বর্ণনায় তাঁর বাহন গাধা। তবে অমঙ্গলের প্রতীক বলে পরিচিত হলেও অলক্ষ্মীকে পুজো করার রীতি রয়েছে। তাঁকে যথাযথভাবে পুজো করে বিদায় জানালে সংসার থেকে অশুভ প্রভাব দূর হয় বলে বিশ্বাস রয়েছে। সেই কারণেই কালীপুজোর দিনে বহু বাড়িতে অলক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।
কালীঘাটের কালীপুজোতেও রয়েছে এই বিশেষ রীতি। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, সন্ধ্যায় দেবী কালীর পুজোর আগে অলক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। দীপান্বিতা অমাবস্যায় দক্ষিণাকালীকে মহালক্ষ্মীর রূপেও ভাবা হয়। কালীঘাটে মহালক্ষ্মী ও ধনলক্ষ্মীর আরাধনাও করা হয়।
Leave a comment