25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Top-News Suvendu Adhikari Warning: কালীঘাটের দিকে ঝুঁকতেই কাজলের নিরাপত্তা প্রত্যাহার, হামিদুলকে পুরনো মামলায় কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
Top-Newsপশ্চিমবঙ্গ

Suvendu Adhikari Warning: কালীঘাটের দিকে ঝুঁকতেই কাজলের নিরাপত্তা প্রত্যাহার, হামিদুলকে পুরনো মামলায় কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

Share
কাজলের নিরাপত্তা প্রত্যাহার। ফাইল ছবি
Share

রায়গঞ্জ ও বীরভূম: রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তনের পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছিল। আর সেই পালাবদলের হাওয়ায় যখন তৃণমূলের একাংশ ফের কালীঘাটের পুরনো বৃত্তে বা মমতার শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ার কসরত শুরু করেছে, ঠিক তখনই অত্যন্ত কড়া বার্তা দিল নবান্ন। 

বিধানসভায় বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ার ‘অপরাধে’ বীরভূমের প্রভাবশালী বিধায়ক কাজল শেখের সমস্ত পুলিশি নিরাপত্তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। 

অন্যদিকে, দলবদল বা অন্য শিবিরের দিকে পা বাড়ানোর জল্পনা তৈরি হতেই চোপড়ার বিতর্কিত বিধায়ক হামিদুল রহমানের অতীতের সমস্ত মামলার ফাইল ঝেঁড়ে ফেলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জোড়া এই পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো থরহরিকম্প অবস্থা।

বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দীর্ঘ টালবাহানার দিনে কাজল শেখের উত্থান হয়েছিল একেবারে অন্য সমীকরণে। গরুপাচার ও আর্থিক তছরূপের মামলায় অনুব্রত জেলে যাওয়ার পর থেকেই বীরভূমের লাল মাটিতে কাজল নিজের জমি পোক্ত করেন। 

পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে সভাধিপতি হওয়া থেকে শুরু করে সম্প্রতি হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়া কাজল নিজের রাজনৈতিক ওজন বাড়িয়েছিলেন যথেষ্ট। সেই সুবাদেই তাঁকে ওয়াই ক্যাটাগরি ও পরবর্তীতে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। কনভয়ে স্কট কার ও অন্তত ১৫ জন সশস্ত্র জওয়ান সবসময় তাঁর সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকতেন।

কিন্তু সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী বলে পরিচিত কাজল শেখ হঠাৎই বিধানসভায় গিয়ে মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি খান। এই ছোট্ট রাজনৈতিক ইশারাতেই শুরু হয় শিবির বদলের জল্পনা। 

আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই নবান্নের নির্দেশে কাজলের সমস্ত নিরাপত্তা এক নিমেষে তুলে নেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী বিধায়ক হিসেবে একজন দেহরক্ষী পাওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে কাজল শেখের সুরক্ষায় ন্যূনতম কোনও পুলিশকর্মীও রাখা হয়নি। কাজলের মন্তব্য, ‘‘বিজয়ার মিষ্টি খেয়েছি, তাই বোধহয় দুজন সিকিউরিটিকেও সরিয়ে দেওয়া হল!’’

একই ছবি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াতেও। চোপড়ার বিতর্কিত বিধায়ক হামিদুল রহমানের দলবদল বা অন্য শিবিরে ভিড়ে যাওয়ার গুঞ্জন যখন রাজনৈতিক পাড়ার উষ্ণতা বাড়িয়ে দিয়েছে, ঠিক তখনই রায়গঞ্জের এক জনসভা থেকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

অতীতে হামিদুল রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত পুরনো মামলার ফাইল পুনরায় খুলে কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জমি দখল ও নানা অভিযোগে জর্জরিত এই বিধায়ককে ঘিরে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রশাসনের অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে, দলবদলের খেলা খেললে বা অনুগত না থাকলে রেয়াত করা হবে না কাউকেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋতব্রতপন্থী বা অন্য কোনও বৃত্তে থেকে যারা মমতার শিবিরের দিকে নতুন করে ভিড় বাড়াতে চাইছেন, তাঁদের কাছে এটি নবান্নের এক স্পষ্ট ও কঠোর সঙ্কেত। একদিকে নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া, অন্যদিকে পুরনো মামলার ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি এই দুই সাঁড়াশি আক্রমণে বিপাকে পড়া দুই বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *