কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিলি করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত।
বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁকে গ্রেফতার করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় প্রাক্তন মন্ত্রীকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন।
আর নবান্ন-সিজিও-ব্যাঙ্কশাল আদালতের এই টানাপোড়েনের মাঝেই হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠল সিঙ্গুর। প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারির খবর পৌঁছতেই তাঁর বিলাসবহুল বাগানবাড়ি ঘিরে ফেটে পড়ল স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী বিজেপি কর্মীদের জমে থাকা ক্ষোভ।
বৃহস্পতিবার সকালে সিঙ্গুরের বাগডাঙা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত ইন্দ্রনীলের ‘মোহর’ নামের বাগানবাড়ির সামনে জুতোপেটা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়েরা। এক ব্যক্তির মুখে প্রাক্তন মন্ত্রীর ছবি সেঁটে, গলায় জুতোর মালা ঝুলিয়ে এবং কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়। বিজেপির সিঙ্গুর মণ্ডল সভাপতি উজ্জ্বল খামারুর নেতৃত্বে হওয়া এই বিক্ষোভে প্রাক্তন মন্ত্রীকে সন্দেশখালির ‘দ্বিতীয় শাহজাহান’ বলেও কটাক্ষ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের গুরুতর অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করা দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা ঢালা হয়েছে এই বাগানবাড়িতে। তাঁদের দাবি, চাষিদের ভয় দেখিয়ে জমি দখল এবং পঞ্চায়েতের সরকারি টাকা
বেআইনি ভাবে ব্যবহার করে বাগানবাড়িতে যাওয়ার রাস্তা ও অট্টালিকা তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে নিকাশি নালা বুজে বর্ষার দিনে গোটা এলাকার কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী বেচারাম মান্নার ‘ঘনিষ্ঠ’ নেতাদের দিকেও, যাঁদের সহায়তায় এই জমি হাতানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়, স্থানীয়দের আরও বিস্ফোরক দাবি, রাত বারোটার পর ওই বাগানবাড়িতে দামি গাড়িতে করে তরুণীদের নিয়ে আসা হত। সারারাত ধরে চলত দেদার আমোদ-প্রমোদ ও অশালীন ফুর্তি। রাত বাড়লেই নাকি ভেসে আসত নূপুরের ঘুঙুরের আওয়াজ!
ইউনেস্কোর পুজোর পাস কেলেঙ্কারিতে বৌবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা এফআইআর এবং পরবর্তীতে ইডির তদন্তের মাঝেই হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আর্জি ধাক্কা খায়। তবে আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর পরেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সিঙ্গুরের এই ‘মোহর’ বাগানবাড়িই হতে চলেছে দুর্নীতির বিপুল অঙ্কের টাকা লুকোনোর মূল কেন্দ্র? কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এখন সেই সমস্ত উত্তর খুঁজতেই জালে তুলতে চাইছে এই চক্রের বাকি কুশীলবদের।
Leave a comment