ঢাকা: তিনি রেকর্ড করেছিলেন ইতিহাস বদলের সেই রোমহর্ষক মুহূর্ত, যখন শেখ হাসিনা বায়ুসেনার বিমানে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করাই কি কাল হলো তাঁর জীবনে? প্রায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশের তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হলো প্রাক্তন বায়ুসেনা অফিসার কেএম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃতদেহ। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে আপাতত নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে ওপার বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অলিন্দে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান প্রাক্তন সেনাকর্তা তাহসিফ। পরিবারের লোক অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে বুধবার হেল্পলাইনের মাধ্যমে খবর পেয়ে টঙ্গী জল পুলিশ ও উত্তরাখান থানা পুলিশ রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে তুরাগ নদী থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে। সাদা ট্রাউজার ও কালো শার্ট পরা ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া আইফোনের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তাহসিফের মৃত্যুর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বোন মুশফেকা জাহান। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যখন সি-১৩০জে হারকিউলিস বিমানে চড়ে ঢাকা ছেড়ে ভারতে রওয়ানা দেন, সেই পুরো দৃশ্যটি তাহসিফ ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। ওই ঐতিহাসিক ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে লাগাতার হেনস্তা ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছিল প্রাক্তন এই অফিসারকে। পরিবারের অভিযোগ, সেই প্রতিহিংসার জেরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তাহসিফকে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ মামলা রুজু করে পুরো রহস্যজনক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না এবং জল ডুবে মৃত্যু নাকি খুনের পর দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে—তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলেই স্পষ্ট হবে। তবে শেখ হাসিনার পলায়নের মতো অতি সংবেদনশীল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির এমন আচমকা রহস্যমৃত্যু বাংলাদেশকে আবার এক নতুন বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
Leave a comment