নয়াদিল্লি: দিনের পর দিন ইভিএম (EVM) এবং ব্যালট পেপার নিয়ে কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের জবাব দিতে অবশেষে নিজেই সোজা ময়দানে নেমে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের চার রাজ্যের বিধান পরিষদ (এমএলসি) উপনির্বাচনে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর প্রধান বিরোধী দলকে একেবারে কোণঠাসা করতে সমাজমাধ্যমে নাম না করে তীব্র কটাক্ষ হানলেন প্রধানমন্ত্রী।
ইভিএম কারচুপির অভিযোগে সরব থাকা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীদের খোঁচা দিয়ে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদী লিখেছেন, ‘ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার পরও একটি আসনও জিততে পারেনি কংগ্রেস’!
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং কর্নাটক, এই চার বড় রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সম্পূর্ণ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আয়োজিত এই লড়াইয়ে কংগ্রেস ১২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও একটিতেও খাতা খুলতে পারেনি।
এমনকি নিজেদের শাসনাধীন রাজ্য কর্নাটকে লজ্জাজনক হারের মুখে পড়তে হয়েছে হাত শিবিরকে। এর পরেই বুধবার সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করেননি প্রধানমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষুরধার খোঁচা মেরে মোদী লেখেন, “চারটি বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং কর্নাটকের ২৮টি আসনে এমএলসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। ভোটগ্রহণ হয়েছে ব্যালট পেপারে। বলুন তো কংগ্রেস ক’টি আসন জিতেছে?” পোস্টের শেষে একটি বিশেষ ‘মনোকল’ বা একচোখা চশমা পরা ইমোজি জুড়ে দিয়ে বিরোধীদের দাবিকে কার্যত হাস্যকর বলেই তুলে ধরেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নেমেছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানিও। তিনি বলেন, “যারা ইভিএম-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রতিনিয়ত ‘ভোট চুরি’র কান্নাকাটি জুড়ে দেয়, সাধারণ মানুষ ব্যালট পেপারে ভোট দিয়েও তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে। পরাজয়ের পর জনমতকে অপমান না করে ‘যুবরাজ অ্যান্ড কোম্পানি’-র এবার বাস্তব মাটিতে নেমে সত্যটা স্বীকার করা উচিত।”
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণকে রাজনৈতিক বক্তৃতা বলে উ উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তারা নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে আসন্ন বিধানসভা ভোটগুলি ব্যালট পেপারেই করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আসলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর আপত্তি সংক্রান্ত খবরের পরেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ইভিএম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে সরব হয়েছিল।
৮৪ বছর বয়সি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট বলেছিলেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফেরাতে ইভিএম বর্জন করে ব্যালট পেপারে ফিরে যাওয়া জরুরি। কিন্তু চার রাজ্যের এই ব্যালট যুদ্ধের ফলাফলকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মোদী যেভাবে সশরীরে কংগ্রেসের ইভিএম-অজুহাতকে তুড়ড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন, তাতে নির্বাচনের মুখে ব্যাকফুটে থাকা বিরোধী শিবির যে আরও বেশি চাপে পড়ে গেল, তা স্পষ্ট।
Leave a comment