ডায়মন্ড হারবার: সর্বভারতীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে শুরু করে নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র, সব জায়গাতেই একসময়ে সুর চড়া থাকত তৃণমূল কংগ্রেসকের। কিন্তু ক্ষমতার পতনের পরেও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারেও যেন ছোঁয়া এখনও অটুট রয়েছে। এলাকার একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতার আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জিম্মায় থাকা আপ্তসহায়ককে নিয়ে তল্লাশিতেই মিলল টাকার সন্ধান
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় গত কয়েক মাস আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। কোটি কোটি টাকায় সরকারি জমি বিক্রি ও মাটি চুরির একাধিক অভিযোগে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির দায়ের করা মামলা এবং কালিতলা আশুতি থানার নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সুমিতকে তুলে নিয়ে দফায় দফায় জেরা চালায় তদন্তকারী আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন: ‘সময় হলেই দেখবেন ভাইপোর কী হয়!’ মমতাকে ‘টু-জি’ কটাক্ষ করে শিলিগুড়ি থেকে বড় বোমা ফাটালেন শুভেন্দু
জেরার মুখে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পায়। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই বুধবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার সরিষা এলাকার একটি স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে হানা দেন তদন্তকারীরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার জানিয়েছেন, ধৃত সুমিত রায়কে জেরা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশেষ রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। আর সেই তল্লাশিতেই পার্টি অফিসের ভেতরে রাখা একটি আলমারির লক ভেঙে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। থরে থরে সাজানো রয়েছে নগদ টাকার বান্ডিল। গুণতে গিয়ে দেখা যায়, সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা সেখানে মজুত রয়েছে।
টাকার উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা, কড়া আক্রমণ
ডায়মন্ড হারবারের মতো হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক এলাকার একটি তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে কীভাবে সোয়া কোটি টাকা উদ্ধার হল এবং এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার উৎস কী, তা নিয়ে এখনো কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি তৃণমূল। পুলিশ এই অর্থের উৎস ও গন্তব্য নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আঁতুড়ঘর ও খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এলাকায় পার্টি অফিস থেকে এমন বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে কটাক্ষ করেছে শাসক বিজেপি। তাদের অভিযোগ, “তৃণমূল মানেই দুর্নীতি এবং কালো টাকার পাহাড়। যেখানে শীর্ষনেতৃত্ব রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অর্থ উদ্ধার হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
পুরভোটের আগে এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এখন বেশ চাপে কালীঘাটের তৃণমূল শিবির।
Leave a comment