•
Home কলকাতা BJP: পুরনোতেই হয়ত ভরসা, নতুনদের নিয়ে মেপে পা! বিজেপির পুরভোটের প্রার্থী তালিকায় চমক কারা?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

BJP: পুরনোতেই হয়ত ভরসা, নতুনদের নিয়ে মেপে পা! বিজেপির পুরভোটের প্রার্থী তালিকায় চমক কারা?

Share
কলকাতা পুরসভা।
Share

কলকাতা: সবকিছু ঠিক থাকলে কাল শুক্রবারের পরেই রাজ্য়ে ঘোষণা হতে পারে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোটের তারিখ। তারজন্য অপেক্ষা না করে দীপাবলির আগেই আদা-জল খেয়ে তৈরি বাংলার শাসক দল বিজেপি। নবান্ন দখলের পর খুব স্বাভাবিক তাদের পরের লক্ষ্য ছোট লাল বাড়ি। তাই আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই প্রার্থীতালিকা চূড়ান্ত করে বাজিমাত করতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি।

বিজেপি সূত্রের খবর, হাওড়া ও কলকাতা, দুই পুরসভাতেই প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুরনো ও বিশ্বস্ত মুখের উপরই আস্থা রাখতে চলেছে শীর্ষনেতৃত্ব। মোট আসনের ৫০ শতাংশেরও বেশি জায়গায় পুরনো কর্মীদেরই টিকিট দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। 

তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বা পরে যাঁরা দলে যোগ দিয়েছেন এবং এলাকায় নিজস্ব পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে, বাকি আসনগুলিতে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শীর্ষনেতৃত্বের সবুজ সংকেত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বঙ্গ বিজেপির জন্য।

আরও পড়ুন: অভিষেকের খাসতালুকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়, উদ্ধার সোয়া কোটি টাকা!

নিচুতলার ক্ষোভ সামলাতে স্ক্রিনিং

একদা একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল দলকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার যথেষ্ট সতর্ক সুকান্ত মজুমদার, রাহুল সিনহারা। প্রার্থীতালিকা নিয়ে দলের ভিতরে যাতে কোনও ক্ষোভ বা অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে জন্য শুরু হয়েছে নিচুতলার মতামত সংগ্রহের কাজ। 

প্রার্থিপদ পাওয়ার আবেদনপত্র ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে রাজ্য দফতরে। বর্তমানে জেলা ও মণ্ডল স্তরে গিয়ে নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন রাজ্য নেতারা। ভাইফোঁটার আগেই নিচুতলার মেজাজ বুঝে মতামত সংগ্রহের কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর পরেই তৈরি করা প্রস্তাবিত খসড়া তালিকা জমা পড়বে দলের রাজ্য কমিটির টেবিলে। সেখান থেকে বাছাই করা নাম যাবে বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা যৌথ কমিটির কাছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেই প্রতিটি নামের ওপর হবে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, “হঠাৎ করে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিলেই কাউন্সিলর হওয়ার টিকিট মিলবে না।” অর্থাৎ, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নিষ্ঠাকেই মূল মাপকাঠি করা হচ্ছে। তবে কেবল পুরানো হলেই হবে না, এলাকায় সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা, স্বচ্ছ ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, জনসংযোগ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘জয়ের সম্ভাবনা’ (উইনেবিলিটি) এই চার শর্ত পূরণ করলেই মিলবে ভোটের টিকিট। তবে, আজ বৃহস্পতিবার নিউটাউনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মুখে অন্য ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তৃণমূলীদের টিকিট প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ জানান, এই ব্যাপারে পার্টিই শেষ কথা বলবে। তবে রাজ্য়ে যে পুরভোটের একটা আবহ তৈরি হয়েছে, তা জানিয়েছেন দিলীপবাবু। 

আরও পড়ুন: তৃণমূলের পার্টি অফিসে ১ কোটিরও বেশি নগদ! নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র? মুখ খুলে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

কমান্ডিং পজিশনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমকে পাখির চোখ করে নির্বাচনী সাজসাজ রব বিজেপি শিবিরে। কলকাতা পুরভোটের ইনচার্জ পদে বসানো হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। তাঁর সঙ্গে কো-ইনচার্জ হিসেবে থাকছেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, আহ্বায়ক তাপস রায় এবং সহ-আহ্বায়ক রীতেশ তিওয়ারি। এই হেভিওয়েট নেতৃত্বই প্রার্থীতালিকার শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা করছেন। তাঁদের প্রস্তুত করা তালিকা জমা পড়বে বঙ্গ বিজেপির পুরভোটের রূপকার তথা কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশলের টেবিলে।

অন্যদিকে, হাওড়া পুরভোটের রাশ রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহার হাতে। তিনি হাওড়ার প্রার্থী তালিকা নিয়ে তাঁর সুপারিশ জমা দেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে,কৌশলগত ভাবেই দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখছে বিজেপি। পুরনো কর্মীদের আবেগ রক্ষা করার পাশাপাশি নবাগতদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে পুরভোটে খাতা খুলতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। এখন দেখার, সংঘাত এড়িয়ে সংঘের ছাড়পত্র নিয়ে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বিজেপি তাদের এই মাস্টারপ্ল্যান কতটা মসৃণ ভাবে রূপায়ণ করতে পারে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *