কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের জামিনের আবেদনে আপাতত সাড়া দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে আসন্ন কালীপুজো ও দীপাবলির উৎসবের দিনগুলি গারদের ভেতরেই কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। শুক্রবার হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে সুমিত রায়ের গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার শুনানি হলেও, তাঁকে আগাম বা অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার আর্জি খারিজ হয়ে যায়। বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুজোর ছুটির পর আদালত স্বাভাবিক নিয়মে খুললে তবেই এই মামলার নিয়মিত শুনানি গ্রহণ করা হবে।
শালবনিতে জমি দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের একটি হাই-প্রোফাইল মামলায় নাম জড়িয়েছিল সুমিত রায়ের। সেই মামলায় পুলিশি গ্রেফতারি এড়াতে প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শীর্ষ আদালতে সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পরেই তৎপর হয়ে পুলিশ সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে। এরপরই সেই গ্রেফতারির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং জামিনের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের দরজায় কড়া নাড়েন সুমিত রায়।
আরও পড়ুন : ৫০ লাখ টাকার তোলাবাজি কাণ্ডে নতুন মোড়!
শুক্রবার হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন সুমিত রায়ের পক্ষে অভিজ্ঞ আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করে দাবি করেন, প্রায় ৫ বছরের পুরনো একটি মামলার ওপর ভিত্তি করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই উৎসবের দিনগুলিতে তাঁকে জামিন দেওয়া হোক। অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে জানান, এই জমি দুর্নীতি মামলার তদন্ত বর্তমানে অত্যন্ত প্রাথমিক ও স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে ইতিমধ্যেই বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি এসেছে। এই মুহূর্তে অভিযুক্ত জামিন পেয়ে গেলে পুরো তদন্তপ্রক্রিয়া প্রভাবিত ও ব্যাহত হতে পারে।
দুই পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় আপাতত কোনও চূড়ান্ত রায় বা মন্তব্য করতে চাননি। হাইকোর্টে পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পর আগামী ১৬ নভেম্বর আদালত পুনরায় খুলবে। সেদিন থেকে নিয়মিত বেঞ্চেই এই বিতর্কিত মামলার পরবর্তী শুনানি সম্পন্ন হবে। ফলে আপাতত সুমিত রায়কে জেলের চার দেওয়ালের মধ্যেই দিন গুনতে হচ্ছে।
Leave a comment