পাটিয়ালা: পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে উত্তরবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) আসার পথে মাঝরাস্তায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলো ১২৫০৮ কর্মভূমি এক্সপ্রেস। শুক্রবার দুপুর গড়াতেই ফতেহপুর সাহিবের সাধুগড় স্টেশনের কাছে ট্রেনের ইঞ্জিন ও চারটি কামরায় হঠাৎই দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ফলে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশের আকাশ। চলন্ত ট্রেনে আগুনের শিখা দেখা মাত্রই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় বগির ভেতরে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার নির্ধারিত সময়েই অমৃতসর থেকে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল কর্মভূমি এক্সপ্রেস। দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি সাধুগড় স্টেশন অতিক্রম করতেই ট্রেনের সাধারণ কামরা থেকে হঠাৎই ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। দেখতে দেখতে আগুন চরম রূপ ধারণ করে এবং ট্রেনের ইঞ্জিন বগি সহ অন্তত চারটি জেনারেল কামরা আগুনের গ্রাসে চলে যায়। বিপদ বুঝে তড়িঘড়ি ট্রেনটিকে মাঝরাস্তায় থামিয়ে দেন চালক। ট্রেন থামতেই হুড়মুড়িয়ে প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইনে নেমে পড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন সাধারণ যাত্রীরা।
আরও পড়ুন : এবার বিহারে সেনার মেজাজে পুলিশ!
খবর পাওয়া মাত্রই অকুস্থলে পৌঁছয় রেলের উদ্ধারকারী দল, দমকলের একাধিক ইঞ্জিন এবং মেডিক্যাল টিম। তড়িঘড়ি আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছন রেলের আম্বালা মণ্ডলের ডিআরএম বিনোদ কুমার ভাটিয়াও। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হলেও সৌভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর মেলেনি বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের।
রেলওয়ে মণ্ডলের পিআরও নীরজ এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, অমৃতসর থেকে পশ্চিমবঙ্গগামী কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে রেলের বিশেষজ্ঞদের অনুমান, চলন্ত ট্রেনের কোনো একটি কামরায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই হয়তো এই ভয়াবহ দাবানলের সূচনা হয়েছিল। তবে কীভাবে এত দ্রুত আগুন ছড়ালো, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment