•
Home Top-News অর্জুনের অ্যালোপ্যাথি টোটকা! অভিষেককে নিয়ে কী বললেন দিলীপ?
Top-Newsকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

অর্জুনের অ্যালোপ্যাথি টোটকা! অভিষেককে নিয়ে কী বললেন দিলীপ?

Share
শুক্রবার কালীঘাটে পুলিশের সঙ্গে বচসায় অভিষেক
Share

কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের বাইরে মধ্যরাতের সংঘাত ও রাজ্য রাজনীতিতে ধুন্ধুমার কান্ডের জেরে এবার পাল্টা চাঁচাছোলা আক্রমণ শানাল পদ্ম শিবির। 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা ধমকানি-চমকানি ও পুলিশের দিকে আঙুল তোলার বিরুদ্ধে সরব হয়ে এবার তাঁকে ‘সঠিক ওষুধ’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। একই সঙ্গে ‘খুনের ষড়যন্ত্র’ ও নিরাপত্তা প্রত্যাহারের অভিযোগ তুলে অভিষেক যে বক্তব্য পেশ করেছেন, তাকে সোজা কথায় ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজকীয় মেজাজে তোপ দাগেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। কালীঘাটের ঘটনা ও অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্জুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার একদম সঠিক জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। ওর যে ওষুধ দরকার, সেই ওষুধ এতদিন দেওয়া হচ্ছিল না। টোটাল অ্যালোপ্যাথি দেওয়া দরকার, হোমিওপ্যাথিতে আর কাজ হবে না! ওঁর ওষুধ ঠিকমতো দেওয়া হলে চোখরাঙানি নিমেষে বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের পার্টির কর্মীদের এখন তৈরি হতে হবে ওকে সঠিক ওষুধটা দেওয়ার জন্য। ওঁর ধমকানি-চমকানি আর কেউ সহ্য করবে না।’’

আরও পড়ুন : তিনি থাকছেন, কালীঘাট-কাণ্ডে পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি মমতার

অভিষেকের মিডিয়া কভারেজ ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে অর্জুন আরও বলেন, ‘‘ভোটে হারার পর সোশাল মিডিয়া আর সংবাদমাধ্যমে টিকে থাকার জন্যই ও এসব বায়বীয় কাণ্ডকারখানা করছে। যদি ওঁর কাছে কোনও স্পষ্ট প্রমাণ থাকে, তবে তা সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে দিক। হয় ওকে এখন সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত, নয়তো এমন শিক্ষা দেওয়া উচিত যা ও সারাজীবন মনে রাখবে। রোজ রোজ সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে আঙুল তুলে পুলিশকে ধমকাবে, চমকাবে, কে ও হরিদাস পাল? বাংলায় কত মানুষের ক্ষতি করেছে, কত বিজেপি কর্মীকে খুন করেছে! যে কিষেণজির দৌলতে এরা ক্ষমতায় এসেছিল, তাকেই তো খুন করা হয়েছে। সেই লোকটাই আবার আজ ধমকাচ্ছে!’’

অন্যদিকে, গত ৬ মাসে তাঁর ওপর সাত বার আক্রমণের চেষ্টা হয়েছে এবং তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের তরফে যে মারাত্মক দাবি তোলা হয়েছিল, তাকে তীব্র কটাক্ষে উড়িয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেকের অভিযোগ ছিল, নিরাপত্তা কমানোর পর থেকেই বিজেপি দুষ্কৃতীরা লাগাতার প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে।

এই বিষয়ে সাংবাদিকরা দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া চাইলে তিনি চরম শ্লেষের সুরে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘‘কাদের অত সময় আছে যে অভিষেককে খুনের চেষ্টা করতে যাবে? রাস্তা দখল করে কেন একজন সাংসদের জন্মদিন পালিত হবে? ওঁর মতো একজন নেতার তো উচিত কলকাতার বড় কোনও হোটেলে গিয়ে জাঁকজমক করে জন্মদিন পালন করা! ওদের নিজেদের মধ্যে মারামারি ও দলীয় কোন্দলের জেরেই রাজপথে এত অশান্তি তৈরি হয়েছে। এখন জনগণের সহানুভূতি কুড়ানোর পুরনো রাস্তায় হেঁটে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন উনি।’’

আরও পড়ুন: কালীঘাটে ‘হামলা’! নাম না করে শুভেন্দুকে কটাক্ষ মমতার, তোপ পুলিশকে

উল্লেখ্য, অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকে তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে অনুগামীরা জমায়েত করলে, পাশ দিয়ে যাওয়া বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বচসা ও হাতাহাতি বাধে। ব্যানার-কাটআউট ছেঁড়া এবং ‘চোর’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। এর পর অভিষেকের সঙ্গে পথে নামেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

মমতা ও অভিষেক উভয়েই পুলিশ প্রশাসন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে আঁতাঁত ও বেআইনি পুজো করানোর অভিযোগ তোলেন। তবে বিজেপি নেতৃত্বের অর্জুন-দিলীপ জুটির এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের উত্তাপ যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *