Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

লাইনের তলা থেকে মাটি সরে বিপর্যয়, নিউ ফরাক্কায় ব্যাহত দূরপাল্লার পরিষেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লাইনের তলা থেকে মাটি সরে বিপর্যয়, নিউ ফরাক্কায় ব্যাহত দূরপাল্লার পরিষেবা
লাইনের তলা থেকে আচমকা সরল মাটি। ছবি-সংগৃহীত

মালদহ: টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টির জের। অবশেষে ফরাক্কার কাছে আপ ও ডাউন রেললাইনের একাংশে দেখা দিল ভয়াবহ ধস। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাঝপথেই বিভিন্ন স্টেশনে থমকে গিয়েছে দার্জিলিং মেল, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসের মতো একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে স্থানীয় প্যাসেঞ্জার ও লোকাল ট্রেন চলাচলও। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।

রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে অতিবৃষ্টির দাপট বাড়ে। এর মধ্যেই নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙা স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায়, বিশেষ করে ফরাক্কা ব্যারেজে প্রবেশের ঠিক মুখে আপ এবং ডাউন— উভয় লাইনের নীচের মাটি আলগা হয়ে সরে যেতে শুরু করে। বৃষ্টির জলে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় আচমকাই ডাউন লাইনের একটি বড় অংশে ধস নামে এবং বেশ কিছুটা অংশ মাটির ভেতরে বসে যায়। চালক ও স্থানীয় রেলকর্মীরা বিষয়টি সময়মতো দেখতে পাওয়ায় এক বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

বিপদের আশঙ্কা টের পেয়েই রেল কর্তৃপক্ষের তরফে কালবিলম্ব না করে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দূরপাল্লার রেল পরিষেবায়। নিউ জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়িগামী একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। মালদহ, বোলপুর, রামপুরহাট ও বর্ধমান সহ একাধিক স্টেশনে আটকে পড়ে দার্জিলিং মেল ও কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। আচমকা এই অচলাবস্থার কারণে বহু দূরপাল্লার যাত্রী ট্রেনের ভেতরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রয়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক, মহিলা ও শিশুদের পানীয় জল ও খাবারের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের পদস্থ আধিকারিক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ দল। লাইন দ্রুত সচল করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে পূর্ব রেল। ধসে যাওয়া অংশে দ্রুত পাথর এবং মাটি ফেলে লাইন সোজা করার চেষ্টা চলছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে মেরামতির কাজ বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।

রেল সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ট্রেন পরিষেবা চালু করার চেয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাঁদের কাছে প্রথম অগ্রাধিকার। লাইন মেরামতের কাজ পুরোপুরি সন্তোষজনক এবং নিরাপদ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওই ট্র্যাকে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণেই বীরভূম, মুর্শিদাবাদসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই অঝোর বৃষ্টি। শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও সোমবারে আবার নতুন করে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মেরামতির পর বৃষ্টি ফের বাড়লে পরিস্থিতি ফের জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কায় রেল প্রশাসন। আপাতত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আটকে থাকা ট্রেনগুলিকে গন্তব্যে পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং টিম।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BreakingNewsMurshidabad EasternRailway INDIANRAILWAYS HiddenStoriesNews FarakkaTrainDisruption NorthBengalTrains

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লাইনের তলা থেকে মাটি সরে বিপর্যয়, নিউ ফরাক্কায় ব্যাহত দূরপাল্লার পরিষেবা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
মালদহ: টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টির জের। অবশেষে ফরাক্কার কাছে আপ ও ডাউন রেললাইনের একাংশে দেখা দিল ভয়াবহ ধস। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাঝপথেই বিভিন্ন স্টেশনে থমকে গিয়েছে দার্জিলিং মেল, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসের মতো একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে স্থানীয় প্যাসেঞ্জার ও লোকাল ট্রেন চলাচলও। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে অতিবৃষ্টির দাপট বাড়ে। এর মধ্যেই নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙা স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায়, বিশেষ করে ফরাক্কা ব্যারেজে প্রবেশের ঠিক মুখে আপ এবং ডাউন— উভয় লাইনের নীচের মাটি আলগা হয়ে সরে যেতে শুরু করে। বৃষ্টির জলে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় আচমকাই ডাউন লাইনের একটি বড় অংশে ধস নামে এবং বেশ কিছুটা অংশ মাটির ভেতরে বসে যায়। চালক ও স্থানীয় রেলকর্মীরা বিষয়টি সময়মতো দেখতে পাওয়ায় এক বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।বিপদের আশঙ্কা টের পেয়েই রেল কর্তৃপক্ষের তরফে কালবিলম্ব না করে ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দূরপাল্লার রেল পরিষেবায়। নিউ জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়িগামী একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। মালদহ, বোলপুর, রামপুরহাট ও বর্ধমান সহ একাধিক স্টেশনে আটকে পড়ে দার্জিলিং মেল ও কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। আচমকা এই অচলাবস্থার কারণে বহু দূরপাল্লার যাত্রী ট্রেনের ভেতরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রয়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক, মহিলা ও শিশুদের পানীয় জল ও খাবারের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের পদস্থ আধিকারিক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ দল। লাইন দ্রুত সচল করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে পূর্ব রেল। ধসে যাওয়া অংশে দ্রুত পাথর এবং মাটি ফেলে লাইন সোজা করার চেষ্টা চলছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে মেরামতির কাজ বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।রেল সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ট্রেন পরিষেবা চালু করার চেয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাঁদের কাছে প্রথম অগ্রাধিকার। লাইন মেরামতের কাজ পুরোপুরি সন্তোষজনক এবং নিরাপদ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওই ট্র্যাকে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণেই বীরভূম, মুর্শিদাবাদসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই অঝোর বৃষ্টি। শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও সোমবারে আবার নতুন করে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মেরামতির পর বৃষ্টি ফের বাড়লে পরিস্থিতি ফের জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কায় রেল প্রশাসন। আপাতত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আটকে থাকা ট্রেনগুলিকে গন্তব্যে পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং টিম।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত