কলকাতা: স্বামী-স্ত্রীর সংসারে এবার দুটির বেশি সন্তান নেওয়া বন্ধ করতে বড়সড় আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে প্রসূতি মৃত্যু নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্যে নাবালিকা গর্ভধারণ এবং একের পর এক সন্তানের জন্ম দেওয়া নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, রাজ্যে ১৩ কিংবা ১৪ নম্বর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়েও প্রসূতি মৃত্যুর মতো চরম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাজ্যের সুতি এক, সুতি দুই ও শামশেরগঞ্জের মতো এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি, যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। এই পরিস্থিতি রুখতে ‘হাম দো হামারে দো’ নীতি কার্যকর করার ডাক দিয়ে তিনি পরিবারগুলিকে সর্বোচ্চ দুটি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং জানান যে দুটি সন্তান হওয়ার পরই স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে সরকারি গর্ভনিরোধক পরিষেবা দেওয়া হবে।
এদিকে বর্তমান সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে স্বাস্থ্যদপ্তরের মোট ২৩ দফা সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খতিয়ান তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কলকাতায় নতুন একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ঘোষণা করেন তিনি। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবার প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে চালু হতে চলেছে আয়ুর্বেদিক আউটডোর পরিষেবা, ফলে এতদিন শুধু আয়ুষ হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ থাকা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা এবার মিলবে সাধারণ অ্যালোপ্যাথি হাসপাতালেও। এছাড়াও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সাধারণ রোগীদের স্বার্থে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে নির্দিষ্ট সংখ্যক শয্যা সংরক্ষণ করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে শয্যা না থাকলে সেই রোগীকে বিনামূল্যে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে এবং এই প্রক্রিয়ার সফল রূপায়ণ নিশ্চিত করতে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে রোগী পাঠিয়ে সোমবারই সফল মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন