মায়াপুর ও কলকাতা: রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে ভক্তি আর রাজনীতির এক অদ্ভুত মিশেল দেখল রাজ্যবাসী। মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার এই পবিত্র তিথিতে একদিকে যখন দেশ ও রাজ্যের মঙ্গল কামনায় মেতে উঠলেন শীর্ষ নেতৃত্ব, ঠিক তখনই অন্য এক সমীকরণ তৈরি হলো রাজনৈতিক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের শাশ্বত আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মহাপ্রভু জগন্নাথের কাছে সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই উৎসব বিনম্রতা, সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শকে অনুপ্রাণিত করে।
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশ ও দশের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেছেন। শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব, বলভদ্র দেব ও সুভদ্রা দেবীর চরণে শতকোটি প্রণাম জানিয়ে তিনি লিখেছেন, প্রভুর অশেষ কৃপায় সকলের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হোক। তবে উৎসবের আবহেও রাজনৈতিক পারদ চড়েছে রথের সকালে ইসকনের হেডকোয়ার্টার মায়াপুরে রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে।
সাতসকালেই মা ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মায়াপুর চন্দ্রদয় মন্দিরে পৌঁছান দিলীপ ঘোষ। সেখানে ভগবানের উদ্দেশে আরতি করার পর সোজা চলে যান গো-শালায়.। নিজের হাতে গোমাতাকে খাবার খাওয়ানো থেকে শুরু করে পা ধুইয়ে দেওয়া—একেবারে নিষ্ঠাভরে গোসেবায় অংশ নেন তিনি। এরপর সস্ত্রীক যজ্ঞানুষ্ঠানে শামিল হয়ে আহুতিও দেন। ইসকনের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের রথযাত্রায় অংশ নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান।
তবে শুধু ভক্তি নয়, মায়াপুরের মাটি থেকেই চেনা মেজাজে হুঙ্কার ছাড়েন এই বিজেপি নেতা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেখানে মশা-মাছি পর্যন্ত আর ঢুকতে পারবে না। এমনকি মদন মিত্রের শিবির বদলের জল্পনা প্রসঙ্গে এটিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে গেলেও, রথের সকালে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন