কলকাতা: তিলোত্তমার বুকে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন কীর্তির সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে ভারতের সর্বপ্রথম ‘শব্দ সংগ্রহশালা’ বা ‘শব্দলোক’-এর জমকালো উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উদ্বোধনমঞ্চ থেকে ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিশেষ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহার বৃদ্ধিকে ঘিরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ছাপিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল ও কৌতূহল তৈরি করেছে অন্য একটি ঘটনা। অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে বাংলা ভাষার প্রসার সংক্রান্ত একটি গোপন চিঠি তুলে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এই চিঠির মূল বিষয়বস্তু বা সারমর্ম রবিবার খোলসা করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি রহস্য জিইয়ে রেখে শুধু এটুকুই জানান, এই চিঠির বিষয়ে যা বলার তিনি সোমবার সরাসরি বিধানসভার অধিবেশনে বিস্তারিত বক্তৃতা করে জানাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
রবিবার জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দু’জনেই এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ভাষণে অমিত শাহ বলেন, এই অভিনব শব্দ সংগ্রহশালা কলকাতার সংস্কৃতির মুকুটে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও উজ্জ্বল পালক। তিনি জানান, ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সংগ্রহশালা তৈরির কথা প্রথম ঘোষণা করেছিলেন এবং তাঁরই দূরদর্শী নির্দেশ ও পরিকল্পনা অনুসারে আজ এটি বাস্তবায়িত হলো। শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানান, এর সবচেয়ে বড় আকর্ষক গ্যালারি হলো ‘ভাষার সময়রেখা’, যেখানে ভারতের মোট ২২টি ভাষার দীর্ঘ বিবর্তনকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হবে। দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন নিয়ে বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সংকীর্ণতার কোনও জায়গা নেই। সংকীর্ণতা কখনই ভারতীয় সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না এবং কারও বিচারধারাতেই কোনওরকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা উচিত নয়। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, বাংলা ভাষাকে তার পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বিশ্বের দরবারে এর ঐতিহ্যকে পৌঁছে দিতে কেন্দ্র বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে গড়ে ওঠা এই অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সংগ্রহশালাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ভারতের ২২টি সাংবিধানিক ভাষার দীর্ঘ ইতিহাস, সাহিত্যের ঐতিহ্য, লিপির বিবর্তন এবং বহুভাষিক সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করে আগামী প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করতে সরকারের ইতিমধ্যেই প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং পুরো প্রকল্পটির সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা। এই ‘শব্দলোক’-এর অন্দরে মোট ৯টি বিশেষ গ্যালারি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সংরক্ষিত শব্দ, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, ঐতিহাসিক শিলালিপি থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাষার বিকাশের একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ উপস্থাপনা রাখা হয়েছে। এর ফলে দর্শনার্থীরা হাজার বছরের ভাষাগত বিবর্তনকে একই ছাদের নীচে চাক্ষুষ করার সুযোগ পাবেন, যা ভারতের বহুভাষিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি স্থায়ী দলিল হিসেবে কাজ করবে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন