Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

আইপ্যাক দফতরে ইডির হানা, তল্লাশি প্রতীকের বাড়িতেও: ভোটের মুখে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
আইপ্যাক দফতরে ইডির হানা, তল্লাশি প্রতীকের বাড়িতেও: ভোটের মুখে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি

লোকসভা ভোটের আবহে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে সরাসরি রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’। বৃহস্পতিবার সকালে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডি সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে আসা একটি বিশেষ দল এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তৃণমূলের ভোট কৌশলী হিসেবে পরিচিত আইপ্যাকের অফিসে হানা দেওয়ার খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই এই বিষয়ে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বাম শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। নবান্নের একাধিক প্রকল্প এবং রণকৌশল নির্ধারণে এই সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন প্রশাসনের অলিন্দে যথেষ্ট ‘প্রভাবশালী’ বলে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সর্বজনবিদিত। এমনকি বিধানসভা ভোটে প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে জেলাস্তরে সংগঠনের কাজ— সবক্ষেত্রেই আইপ্যাকের বড় ভূমিকা থাকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে মালদহে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত। ঘটনাচক্রে, বুধবার রাতে তিনি কলকাতা ফেরেননি, আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হানা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানের আইনি দিকের চেয়েও রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরের সময় রাজ্য বিজেপির একাংশ প্রশ্ন তুলেছিল কেন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি 'বড় মাথাদের' বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছে না। শাহ দিল্লি ফিরে যাওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই এই অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কাকতালীয়ভাবে, আজই কলকাতায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা।

প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় সব শিবির ইডির এই তল্লাশি কতক্ষণ চলে এবং সেখান থেকে কী কী তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। ভোটের মুখে এই ঘটনা বিজেপি শিবিরকে নতুন করে ‘অক্সিজেন’ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযান নিয়ে কী অবস্থান নেন, এখন সেটাই দেখার।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


আইপ্যাক দফতরে ইডির হানা, তল্লাশি প্রতীকের বাড়িতেও: ভোটের মুখে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
লোকসভা ভোটের আবহে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে সরাসরি রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’। বৃহস্পতিবার সকালে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডি সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে আসা একটি বিশেষ দল এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তৃণমূলের ভোট কৌশলী হিসেবে পরিচিত আইপ্যাকের অফিসে হানা দেওয়ার খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই এই বিষয়ে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বাম শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। নবান্নের একাধিক প্রকল্প এবং রণকৌশল নির্ধারণে এই সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন প্রশাসনের অলিন্দে যথেষ্ট ‘প্রভাবশালী’ বলে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সর্বজনবিদিত। এমনকি বিধানসভা ভোটে প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে জেলাস্তরে সংগঠনের কাজ— সবক্ষেত্রেই আইপ্যাকের বড় ভূমিকা থাকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে মালদহে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত। ঘটনাচক্রে, বুধবার রাতে তিনি কলকাতা ফেরেননি, আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হানা শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানের আইনি দিকের চেয়েও রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরের সময় রাজ্য বিজেপির একাংশ প্রশ্ন তুলেছিল কেন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি 'বড় মাথাদের' বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছে না। শাহ দিল্লি ফিরে যাওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই এই অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কাকতালীয়ভাবে, আজই কলকাতায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা।প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় সব শিবির ইডির এই তল্লাশি কতক্ষণ চলে এবং সেখান থেকে কী কী তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। ভোটের মুখে এই ঘটনা বিজেপি শিবিরকে নতুন করে ‘অক্সিজেন’ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযান নিয়ে কী অবস্থান নেন, এখন সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার