কলকাতা: মুর্শিদাবাদের বিএলও হামিমুর ইসলামের অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। তাঁর কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসহনীয় চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে ধর্নায় বসলেন মৃতের সন্তান তহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত পরশু মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা এলাকার বিএলও হামিমুর ইসলাম 'আত্মঘাতী' হন। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে তাঁর উপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। এর জেরেই তিনি চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বিএলওদের ধর্না মঞ্চে এসে উপস্থিত হন হামিমুর ইসলামের ছেলে তহিদুল ইসলাম। দুচোখে জল নিয়ে তহিদুল বলেন, "আমি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমার বাবা ছাড়া আমাদের পরিবারে আর কোনও উপার্জনকারী সদস্য নেই। আমি শুধু জানতে চাই, আমাদের সংসার এখন কীভাবে চলবে? ‘স্যার’-এর কাজের চাপের কারণেই আমার বাবাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে। যতক্ষণ না কমিশন আমার দাবি মানছে, আমি এই ধর্না মঞ্চ ছাড়ব না।"
বিএলও-দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করা বা ডিজিট্যাল ডাটা এন্ট্রি নিয়ে প্রশাসনের নিচুতলার কর্মীদের উপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। হামিমুর ইসলামের মৃত্যু সেই অভিযোগকেই ফের একবার সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে বিএলও কর্মীদের বিক্ষোভ এখন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। এক সহকর্মীর অকাল মৃত্যু এবং তাঁর সন্তানের এই অসহায়তা দেখে বিএলও ইউনিয়ন স্পষ্ট জানিয়েছে, কাজের পরিবেশ উন্নত না হলে এবং মৃতের পরিবারকে যোগ্য ক্ষতিপূরণ না দিলে তারা রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি মেলেনি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন