Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে এবার ড্রোন কিনছে বিজিবি, নেপথ্যে কি চিন-তুরস্কের প্রযুক্তির লড়াই?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে এবার ড্রোন কিনছে বিজিবি, নেপথ্যে কি চিন-তুরস্কের প্রযুক্তির লড়াই?

ঢাকা: বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে। বিমানবাহিনীর (BAF) পর এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি (BGB) তাদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করতে চলেছে সামরিক গ্রেডের ড্রোন। গত ডিসেম্বরে জারি হওয়া টেন্ডারগুলি ১৩ জানুয়ারি খোলা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক স্তরের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোয়াডকপ্টার এবং ফিক্সড-উইং ড্রোন সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও টেন্ডার

সীমান্তে নজরদারি বা 'সার্ভেইল্যান্স' ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে ঢাকা পিলখানার বিজিবি সদর দপ্তর থেকে তিনটি পৃথক টেন্ডার ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • কোয়াডকপ্টার ড্রোন সিস্টেম: যা উন্নত ভার্টিক্যাল টেক-অফ এবং ল্যান্ডিং (VTOL) ক্ষমতাসম্পন্ন।
  • ফিক্সড-উইং ড্রোন: যা দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে সক্ষম।
  • ড্রোন কন্ট্রোল ডিভাইস: ড্রোনগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অত্যাধুনিক কন্ট্রোল সিস্টেম।

মূলত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারির গভীরতা বাড়ানো এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক তথ্য জোগাড় করাই বিজিবির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এই ড্রোন সংগ্রহের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার চিনের সাথে একটি বড়সড় চুক্তি করতে চলেছে। প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার সরকারি (G2G) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি সামরিক ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চিনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা 'চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন' (CETC) এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। গত ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রক এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের হাতে তুরস্কের তৈরি জনপ্রিয় 'বায়রাক্তার টিবি-২' (Bayraktar TB2) ড্রোন রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে মেঘালয় সীমান্ত সংলগ্ন আকাশসীমায় এই ড্রোনগুলিকে মহড়া দিতে দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও বিএসএফের (BSF) পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, এই ড্রোনগুলি একনাগাড়ে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ওড়ার ক্ষমতা রাখে, যা নজরদারির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। অতি সম্প্রতি বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান তুরস্ক সফরে গিয়ে ড্রোন বহর আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকেই সেনাবাহিনী ড্রোন এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের বিষয়ে তৎপর ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে চিনের প্রযুক্তি আর অন্যদিকে তুরস্কের তৈরি বিশ্বসেরা ড্রোন— এই দুয়ের মিশেলে বাংলাদেশ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নর্থ ইস্ট নিউজ 

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে এবার ড্রোন কিনছে বিজিবি, নেপথ্যে কি চিন-তুরস্কের প্রযুক্তির লড়াই?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
ঢাকা: বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে। বিমানবাহিনীর (BAF) পর এবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি (BGB) তাদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করতে চলেছে সামরিক গ্রেডের ড্রোন। গত ডিসেম্বরে জারি হওয়া টেন্ডারগুলি ১৩ জানুয়ারি খোলা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক স্তরের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোয়াডকপ্টার এবং ফিক্সড-উইং ড্রোন সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।বিজিবির বিশেষ পরিকল্পনা ও টেন্ডারসীমান্তে নজরদারি বা 'সার্ভেইল্যান্স' ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে ঢাকা পিলখানার বিজিবি সদর দপ্তর থেকে তিনটি পৃথক টেন্ডার ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:কোয়াডকপ্টার ড্রোন সিস্টেম: যা উন্নত ভার্টিক্যাল টেক-অফ এবং ল্যান্ডিং (VTOL) ক্ষমতাসম্পন্ন।ফিক্সড-উইং ড্রোন: যা দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে সক্ষম।ড্রোন কন্ট্রোল ডিভাইস: ড্রোনগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অত্যাধুনিক কন্ট্রোল সিস্টেম।মূলত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারির গভীরতা বাড়ানো এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক তথ্য জোগাড় করাই বিজিবির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।এই ড্রোন সংগ্রহের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার চিনের সাথে একটি বড়সড় চুক্তি করতে চলেছে। প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার সরকারি (G2G) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি সামরিক ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চিনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা 'চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন' (CETC) এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। গত ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রক এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের হাতে তুরস্কের তৈরি জনপ্রিয় 'বায়রাক্তার টিবি-২' (Bayraktar TB2) ড্রোন রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে মেঘালয় সীমান্ত সংলগ্ন আকাশসীমায় এই ড্রোনগুলিকে মহড়া দিতে দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও বিএসএফের (BSF) পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, এই ড্রোনগুলি একনাগাড়ে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ওড়ার ক্ষমতা রাখে, যা নজরদারির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। অতি সম্প্রতি বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান তুরস্ক সফরে গিয়ে ড্রোন বহর আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকেই সেনাবাহিনী ড্রোন এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের বিষয়ে তৎপর ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে চিনের প্রযুক্তি আর অন্যদিকে তুরস্কের তৈরি বিশ্বসেরা ড্রোন— এই দুয়ের মিশেলে বাংলাদেশ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।নর্থ ইস্ট নিউজ 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার