কলকাতা: ভোটারতালিকা সংশোধনের কাজের অতিরিক্ত চাপই কি কেড়ে নিল এক সরকারি কর্মীর প্রাণ? যাদবপুরের বিএলও অশোক দাসের মৃত্যুর ঘটনায় এবার এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তাঁর স্ত্রী। ইতিমধ্যেই পূর্ব যাদবপুর থানায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অত্যধিক মানসিক চাপ ও দুর্ব্যবহারই অশোকবাবুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই ভোটারতালিকা সংক্রান্ত কাজে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন অশোক দাস। কাজের টার্গেট পূরণ করা নিয়ে এক ‘স্যারে’র কাছ থেকে ক্রমাগত ধমক ও চাপ আসছিল। অভিযোগপত্রে ওই আধিকারিকের ভূমিকার কথা স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। স্ত্রীর দাবি, কাজের চাপে অশোকবাবু এতটাই বিধ্বস্ত ছিলেন যে তার প্রভাব তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর পড়েছিল। যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার কাজ থেকে ফেরার পরই অসুস্থ বোধ করেন অশোক দাস। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের সহকর্মীরা। তাঁদেরও অভিযোগ ছিল, বিএলও-দের ওপর ইদানীং যে পরিমাণ কাজের বোঝা চাপানো হচ্ছে, তা সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
পূর্ব যাদবপুর থানা সংশ্লিষ্ট অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত ওই নির্দিষ্ট আধিকারিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের কর্মক্ষেত্রে সত্যিই কোনও অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল কিনা, তা জানতে তাঁর সহকর্মীদের বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলির মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। ভোটারতালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কর্মীদের সুরক্ষার দাবি তুলছেন তাঁরা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন