ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার আগারগাঁওয়ের ৬০ ফিট এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের মাত্র কিছু দিন আগে দুই রাজনৈতিক 'মিত্র শক্তি'র এই সংঘাত রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি করছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৬০ ফিট আল মোবারক মসজিদের পাশে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দফায় দফায় একে অপরকে তাড়া ও পাল্টা তাড়া করা এবং ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। যার জেরে পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন নাকি বেশ কয়েকজনকে আল মোবারক মসজিদের ভিতর আটকে রাখা হয়।
এদিকে, এই সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির মীরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মইনুল হক জানান, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছেন। তবে, পুরো এলাকায় এখনও আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই ধরনের সংঘাত অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে এই বিরোধ আদতে রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রম-অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। রাজধানীর ব্যস্ততম একটি এলাকায় সন্ধ্যার সময় এই ধরনের সংঘর্ষ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বস্তুত, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, জনমনে শঙ্কা বাড়ছে যে রাজনৈতিক দলগুলির এই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কোন্দল শেষ পর্যন্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করলেও সাধারণ মানুষ আগামীর দিনগুলি নিয়ে যথেষ্ট উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন