সাগর দ্বীপ: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুড়িগঙ্গা নদীতে বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ল 'এমভি তানজিদ নাসির' নামে একটি বাংলাদেশি বার্জ। বুধবার দুপুরে সাগর দ্বীপের কাছে কচুবেড়িয়া এবং ৮ নম্বর লটের মাঝামাঝি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বার্জটিতে থাকা ১০ থেকে ১২ জন কর্মী কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচালেও, জাহাজের সিংহভাগ পণ্যসহ এখন জলের নিচে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্জটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থেকে প্রচুর পরিমাণে ফ্লাই অ্যাশ নিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছিল। মুড়িগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় ভাঁটার কারণে নদীতে জেগে ওঠা একটি বিশাল বালির চড়ায় সেটি সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার ফলে বার্জের নিচের অংশ ফেটে গিয়ে দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করে এবং বার্জটি ডুবতে থাকে। বিপদ বুঝে কর্মীরা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের ট্রলারগুলো দ্রুত গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।
এই দুর্ঘটনার ফলে নদীতে বড়সড় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক টন ফ্লাই অ্যাশ নদীর জলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সুন্দরবন এলাকার বাস্তুতন্ত্র নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। সুন্দরবন মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সতীনাথ পাত্র এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খবর পেয়ে সুন্দরবন জেলা পুলিশ এবং সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ডুবে যাওয়া বার্জটি উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে নদীতে ডুবে থাকা এই বার্জটি অন্য জাহাজ চলাচলের পথে কোনো বাধা তৈরি করবে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন সেচ দপ্তর ও পোর্ট ট্রাস্টের বিশেষজ্ঞরা। ফ্লাই অ্যাশ থেকে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং দ্রুত নৌচলাচল স্বাভাবিক করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন