ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টন-এ অনুষ্ঠিতব্য দলের নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, “গতকাল আমরা একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর ৮ তারিখের সমাবেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সীমিত আকারে নির্বাচনী বক্তব্য রাখতে পারেন। তবে ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বড় কোনও জনসভা আপাতত হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এর আগের দিনই রিজভী জানিয়েছিলেন যে, ৮ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে বিএনপির শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই ঘোষণায় রদবদল রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে।
অনেকেই বলছেন, নিরাপত্তা, জামায়াত-বিএনপি টানাপোড়েন ও সহিংসতার প্রভাব এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কারণ।
দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিভিন্ন জেলায় ভোটপ্রচারে হিংসা ও সংঘর্ষ এবং বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মূখোমুখি অবস্থান ও কৌশলগত টানাপোড়েন।
এছাড়াও, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও বড় জনসভা বাতিলের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচনের ঠিক আগে রাজধানীতে বড় জমায়েত না করে এলাকাভিত্তিক প্রচারে জোর দেওয়ার কৌশলকে বিএনপির ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে ভোটের মুখে নয়াপল্টনের জনসভা বাতিল দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবলে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাওয়ার পর বিএনপির এই কৌশলগত পিছু হটা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল—যার প্রভাব আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন