ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের দিন বাংলাদেশজুড়ে নজিরবিহীন কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের দিন মধ্যরাত থেকে পরবর্তী রাত ১২টা পর্যন্ত একাধিক ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি অনলাইন মানি ট্রান্সফার পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে টানা ৭২ ঘণ্টা। একইসঙ্গে, বিকাশ, নগদ, রকেট-সহ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো ও গ্রহণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি—ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অনিয়ম ঠেকানো।
তবে, প্রশাসনিক এই কড়াকড়ি ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজে। ভোটের দিন গণপরিবহণ কার্যত স্তব্ধ, ব্যক্তিগত যান চলাচলেও কড়া বিধিনিষেধ—এর মধ্যে সাধারণ ভোটার কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছোতে পারবেন, তা নিয়েই সংশয়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার ভোটারদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ ভোটদানে বাস্তব বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মত অনেকের।
যদিও জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহণকারী যান নির্দিষ্ট শর্তে চলাচল করতে পারবে। প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদের জন্যও সীমিত সংখ্যক যানবাহন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবু ভোটের অধিকার প্রয়োগের দিনেই নাগরিক জীবনে এত নিয়ন্ত্রণ কতটা যুক্তিসঙ্গত—তা নিয়েই বিতর্ক দানা বাঁধছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, এত কড়াকড়ির মধ্যে নির্বাচন আদৌ ভোটারবান্ধব থাকে কিনা। শেষ পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ ভোটার উপস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয়।
বিষয় : Bangladesh Bangladesh Election

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন