Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঢাকা সেনানিবাসেও জামায়াতের দাপট! তারেকের চেয়েও বেশি ভোট পেলেন খালিদুজ্জামান, অশনি সঙ্কেত সেনাবাহিনীতে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা সেনানিবাসেও জামায়াতের দাপট! তারেকের চেয়েও বেশি ভোট পেলেন খালিদুজ্জামান, অশনি সঙ্কেত সেনাবাহিনীতে?

ঢাকা: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর সমীকরণ উঠে এল ঢাকা সেনানিবাস এলাকা থেকে। ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ঢাকা সেনানিবাসের দুটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে পিছনে ফেলে দিয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী! এই নির্বাচনী ফলাফল এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের (Postal Ballot) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে চরম ডানপন্থী আদর্শের অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী, ঢাকা সেনানিবাসের ভেতর অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জামায়াতের ভোটপ্রাপ্তি ছিল ঈর্ষণীয়। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৮,৮৫৬ জন। ভোট পড়েছে ৪,১২১টি। এখানে জামায়াত প্রার্থী ছিলেন ড. এস এম খালিদুজ্জামান। তিনি পেয়েছেন ২,০০৩টি ভোট। অন্যদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান পেয়েছেন ১,৯৪২ ভোট। এছাড়াও, শহিদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রের ফলাফল বিএনপির জন্য আরও শোচনীয়। এখানে তারেক রহমান পেয়েছেন মাত্র ৬৮১টি ভোট। যেখানে ড. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ১,২৬১টি ভোট — যা বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের প্রায় দ্বিগুণ!


সেনানিবাস এলাকার এই ফলাফল কেবল একটি হার-জিতের খতিয়ান নয়। বরং, এর নেপথ্যে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণত সেনানিবাসের ভিতরের কেন্দ্রগুলিতে কর্মরত সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকেরা ভোট দিয়ে থাকেন।


প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুধু এই দুটি কেন্দ্রই নয়, দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে অবস্থানরত সাধারণ সৈনিকদের (অফিসার পদমর্যাদার নীচে) প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটে জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কোনও বিশেষ চরমপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ থেকে মুক্ত থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেখানে চরম ডানপন্থী বা উগ্র মতাদর্শের প্রতি এক ধরনের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, সেনাবাহিনীর মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের ভিতর উগ্র ডানপন্থী আদর্শের এই বিস্তার দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


ঢাকা সেনানিবাসের পাঁচটি প্রধান কেন্দ্রের মধ্যে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, বারিধারা স্কলারস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং বিএএফ শাহীন কলেজের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড এখনও প্রকাশ্যে না এলেও, হাতে আসা দুটি কেন্দ্রের ফলাফলই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার অলিন্দে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বিষয় : BNP Bangladesh Jamaat

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ঢাকা সেনানিবাসেও জামায়াতের দাপট! তারেকের চেয়েও বেশি ভোট পেলেন খালিদুজ্জামান, অশনি সঙ্কেত সেনাবাহিনীতে?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
ঢাকা: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর সমীকরণ উঠে এল ঢাকা সেনানিবাস এলাকা থেকে। ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ঢাকা সেনানিবাসের দুটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে পিছনে ফেলে দিয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী! এই নির্বাচনী ফলাফল এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের (Postal Ballot) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে চরম ডানপন্থী আদর্শের অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী, ঢাকা সেনানিবাসের ভেতর অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জামায়াতের ভোটপ্রাপ্তি ছিল ঈর্ষণীয়। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৮,৮৫৬ জন। ভোট পড়েছে ৪,১২১টি। এখানে জামায়াত প্রার্থী ছিলেন ড. এস এম খালিদুজ্জামান। তিনি পেয়েছেন ২,০০৩টি ভোট। অন্যদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান পেয়েছেন ১,৯৪২ ভোট। এছাড়াও, শহিদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রের ফলাফল বিএনপির জন্য আরও শোচনীয়। এখানে তারেক রহমান পেয়েছেন মাত্র ৬৮১টি ভোট। যেখানে ড. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ১,২৬১টি ভোট — যা বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের প্রায় দ্বিগুণ!সেনানিবাস এলাকার এই ফলাফল কেবল একটি হার-জিতের খতিয়ান নয়। বরং, এর নেপথ্যে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণত সেনানিবাসের ভিতরের কেন্দ্রগুলিতে কর্মরত সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকেরা ভোট দিয়ে থাকেন।প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুধু এই দুটি কেন্দ্রই নয়, দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে অবস্থানরত সাধারণ সৈনিকদের (অফিসার পদমর্যাদার নীচে) প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটে জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কোনও বিশেষ চরমপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ থেকে মুক্ত থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেখানে চরম ডানপন্থী বা উগ্র মতাদর্শের প্রতি এক ধরনের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, সেনাবাহিনীর মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের ভিতর উগ্র ডানপন্থী আদর্শের এই বিস্তার দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।ঢাকা সেনানিবাসের পাঁচটি প্রধান কেন্দ্রের মধ্যে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, বারিধারা স্কলারস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং বিএএফ শাহীন কলেজের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড এখনও প্রকাশ্যে না এলেও, হাতে আসা দুটি কেন্দ্রের ফলাফলই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার অলিন্দে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার