ঢাকা: ১৯৫২-র সেই উত্তাল ফাগুন আর ২০২৬-এর নতুন শপথ— দুইয়ে মিলে একুশের প্রথম প্রহরে অন্য এক বাংলাদেশের সাক্ষী থাকল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। শুক্রবার মধ্যরাতে ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের পুষ্পস্তবক অর্পণের পরেই ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দেড় বছরে বারংবার জামাতে ইসলামীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যখন বাঙালির নিজস্ব অস্মিতা ও অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তখন একুশের এই প্রথম প্রহরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষা শহিদদের স্মরণে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন তারেক রহমান। এরপর তাঁর নেতৃত্বেই শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রিসভার সদস্যরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, একাত্তর ভোলেনি বাংলাদেশ। বাংলা ভাষার প্রতি তীব্র প্রেমই যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিল, সেই ইতিহাস আজও অমলিন। এদিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় জামাতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদেরও, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে যে ভাষা আন্দোলনের বীজ বপন হয়েছিল, ১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারি তা রক্তক্ষয়ী চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহিদ হন রফিক, জব্বার, বরকতরা। সেই আত্মত্যাগের পথ ধরেই ১৯৫৪-তে স্বীকৃতি এবং ১৯৫৬-তে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশ্বজনীন স্বীকৃতি পায়।
আজ শনিবার সারাদিন ধরে সাধারণ মানুষের জনস্রোত আছড়ে পড়ছে শহিদ মিনারে। সর্বস্তরের মানুষের এই আবেগ প্রমাণ করে দিচ্ছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বাঙালির ভাষার লড়াই আর একাত্তরের চেতনা আজও অটুট।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন