কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ (Under Scrutiny) ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই বিশাল সংখ্যক তথ্য যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হচ্ছে ২০০ জন বিচারপতিকে।
ভিন রাজ্যের এই বিচারপতিদের মূলত নিয়োগ করা হবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, হাওড়া, হুগলি, দুই বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায়। বিশেষত উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়ার মতো ‘মতুয়াগড়’ এলাকায় ভোটারদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় সংক্রান্ত নথির নিষ্পত্তিতে তাঁরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্তমানে রাজ্যের ৫০৫ জন বিচারপতি এই কাজে নিযুক্ত থাকলেও গতির অভাব মেটাতেই এই বাড়তি শক্তি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে চলা এই প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬ লক্ষ ভোটারের মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে:
৫ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজিরা দেননি।
অনেকে কোনো নথিপত্রই জমা দেননি, আবার কেউ দিয়েছেন অগ্রহণযোগ্য নথি।
প্রায় ৮-১০ লক্ষ ভোটার সময়মতো নোটিস পাননি বলে দাবি করেছেন, যাদের নামও এখন ‘বিচারাধীন’ তালিকায়।
অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন আধিকারিকরা (ERO) সরাসরি বাতিল করতে না পারায় বিষয়টি বিচারপতিদের এজলাসে পাঠিয়েছেন।
আগামী রবিবার রাতে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোম ও মঙ্গলবার দফায় দফায় প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে বিএলও-দের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। এরপর তাঁরা দিল্লি ফিরে গেলেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। কমিশনের মূল লক্ষ্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে দ্রুত এই জট কাটানো। তবে প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে যদি এই বিশাল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়, তবে কি এই বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন? এই ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন