Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

২০ বছর পর সেই মেট্রো চ্যানেল: SIR ইস্যুতে ফের ‘অগ্নিকন্যা’র মেজাজে মমতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬
২০ বছর পর সেই মেট্রো চ্যানেল: SIR ইস্যুতে ফের ‘অগ্নিকন্যা’র মেজাজে মমতা!
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: ক্যালেন্ডারের পাতায় সময়টা এখন ২০২৬। ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় এই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলেই টানা ২৬ দিনের ঐতিহাসিক অনশনে বসেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দশক পর, শুক্রবার সেই একই চত্বরে ফের ধরনামঞ্চে বসছেন তিনি। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তিনি এখন রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিপক্ষ বামফ্রন্ট নয়। বরং, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন। আর ধরনার ইস্যু হল, এসআইআর বা ভোটারতালিকার বিশেষ নিবির সংশোধন প্রক্রিয়ায় মানুষের বেনজির ‘হয়রানি’র প্রতিবাদ।


বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই রাজপথের লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে যখনই তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুরোনো ‘স্ট্রিট ফাইটার’ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেছেন। ২০০৬-এর সেই জেদ আর ২০২৬-এর এই প্রতিবাদী অবস্থান — দুটোর মধ্যেই একটা অদ্ভূত সমান্তরাল রেখা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


তৃণমূলের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে বাংলার বাসিন্দা বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় (কিন্তু পরিবর্তনযোগ্য) দেখা গিয়েছে বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ নাম 'বিবেচনাধীন' হিসাবে রাখা হয়েছে। এই জনবিক্ষোভকে সরাসরি ভোটব্যাঙ্কে রূপান্তরিত করতেই মমতা ফের বেছে নিলেন তাঁর 'পয়মন্ত রণক্ষেত্র' — মেট্রো চ্যানেল!


এবারের ধরনায় মমতার সঙ্গী হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের অন্য শীর্ষ নেতারা। বৃহস্পতিবার থেকেই মঞ্চসজ্জার কাজ শেষ। মঞ্চের বিন্যাস বলে দিচ্ছে, এটি কেবল প্রতিবাদ নয়। বরং, নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার একটি বড় দাওয়াই।


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। তিনি বলেছেন, "আগামী ১০-১৫ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ।" তবে, কর্মীদের এলাকা না ছেড়ে কলকাতা ও আশপাশের এলাকা থেকে সমর্থকদের আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যাতে বুথ স্তরে সংগঠনের কাজে কোনও ফাঁক না থাকে।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে 'নাগরিক অধিকার রক্ষা'র লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন, তাতে সাধারণ মানুষের আবেগ সরাসরি শাসকদলের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এনআরসি ইস্যুর মতো এসআইআর-কেও একটি 'বাঙালিবিরোধী চক্রান্ত' হিসাবে তুলে ধরে বিধানসভা ভোটের আগে জমি শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল।

বাংলার শাসকদলের মূল অভিযোগের তির যেদিকে, তা হল - 

১) নির্বাচন কমিশন: এসআইআর প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং হয়রানির অভিযোগ।

২) কেন্দ্রীয় সরকার: ভোটারতালিকা সংশোধনের নামে গণতন্ত্র হত্যার চক্রান্ত।

৩) ভোটাধিকার: বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করা।

আজ দুপুর ২টো থেকে শুরু হওয়া এই ধরনা মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন্ন নির্বাচনের রণনীতি স্পষ্ট করে দেবেন। ২০ বছর আগে মেট্রো চ্যানেলের আন্দোলন বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তনের সুর বেঁধে দিয়েছিল। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে সেই একই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা কি ফের কোনও বড় ঘটনার ইঙ্গিত, নাকি নিছকই ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই — তার উত্তর দেবে সময়।

বিষয় : #SIR #MAMATABANNERJEE #METROCHANNEL

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


২০ বছর পর সেই মেট্রো চ্যানেল: SIR ইস্যুতে ফের ‘অগ্নিকন্যা’র মেজাজে মমতা!

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ক্যালেন্ডারের পাতায় সময়টা এখন ২০২৬। ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় এই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলেই টানা ২৬ দিনের ঐতিহাসিক অনশনে বসেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দশক পর, শুক্রবার সেই একই চত্বরে ফের ধরনামঞ্চে বসছেন তিনি। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তিনি এখন রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিপক্ষ বামফ্রন্ট নয়। বরং, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন। আর ধরনার ইস্যু হল, এসআইআর বা ভোটারতালিকার বিশেষ নিবির সংশোধন প্রক্রিয়ায় মানুষের বেনজির ‘হয়রানি’র প্রতিবাদ।বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই রাজপথের লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে যখনই তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুরোনো ‘স্ট্রিট ফাইটার’ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেছেন। ২০০৬-এর সেই জেদ আর ২০২৬-এর এই প্রতিবাদী অবস্থান — দুটোর মধ্যেই একটা অদ্ভূত সমান্তরাল রেখা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।তৃণমূলের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে বাংলার বাসিন্দা বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় (কিন্তু পরিবর্তনযোগ্য) দেখা গিয়েছে বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ নাম 'বিবেচনাধীন' হিসাবে রাখা হয়েছে। এই জনবিক্ষোভকে সরাসরি ভোটব্যাঙ্কে রূপান্তরিত করতেই মমতা ফের বেছে নিলেন তাঁর 'পয়মন্ত রণক্ষেত্র' — মেট্রো চ্যানেল!এবারের ধরনায় মমতার সঙ্গী হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের অন্য শীর্ষ নেতারা। বৃহস্পতিবার থেকেই মঞ্চসজ্জার কাজ শেষ। মঞ্চের বিন্যাস বলে দিচ্ছে, এটি কেবল প্রতিবাদ নয়। বরং, নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার একটি বড় দাওয়াই।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। তিনি বলেছেন, "আগামী ১০-১৫ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ।" তবে, কর্মীদের এলাকা না ছেড়ে কলকাতা ও আশপাশের এলাকা থেকে সমর্থকদের আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যাতে বুথ স্তরে সংগঠনের কাজে কোনও ফাঁক না থাকে।রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে 'নাগরিক অধিকার রক্ষা'র লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন, তাতে সাধারণ মানুষের আবেগ সরাসরি শাসকদলের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এনআরসি ইস্যুর মতো এসআইআর-কেও একটি 'বাঙালিবিরোধী চক্রান্ত' হিসাবে তুলে ধরে বিধানসভা ভোটের আগে জমি শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল।বাংলার শাসকদলের মূল অভিযোগের তির যেদিকে, তা হল - ১) নির্বাচন কমিশন: এসআইআর প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং হয়রানির অভিযোগ।২) কেন্দ্রীয় সরকার: ভোটারতালিকা সংশোধনের নামে গণতন্ত্র হত্যার চক্রান্ত।৩) ভোটাধিকার: বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করা।আজ দুপুর ২টো থেকে শুরু হওয়া এই ধরনা মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন্ন নির্বাচনের রণনীতি স্পষ্ট করে দেবেন। ২০ বছর আগে মেট্রো চ্যানেলের আন্দোলন বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তনের সুর বেঁধে দিয়েছিল। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে সেই একই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা কি ফের কোনও বড় ঘটনার ইঙ্গিত, নাকি নিছকই ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই — তার উত্তর দেবে সময়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার