নয়াদিল্লি: তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র এবং আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাইয়ের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবার এক অন্য মাত্রা নিল। 'তাঁদের' পোষ্য রটওয়াইলার কুকুর ‘হেনরি’র হেফাজত কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মামলা গড়াল দিল্লি হাইকোর্টে। মঙ্গলবার এই মামলায় মহুয়া মৈত্রকে নোটিস পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত।
সাকেত আদালতের (ট্রায়াল কোর্ট) একটি নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জয় দেহাদ্রাই। মহুয়া মৈত্র পোষ্য কুকুরের ‘যৌথ হেফাজত’ চেয়ে যে মামলা করেছিলেন, তা খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন জয়। কিন্তু, ট্রায়াল কোর্ট সেই আবেদন মানতে চায়নি। এরই প্রতিবাদে উচ্চ আদালতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান দেহাদ্রাই।
মঙ্গলবার বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরির বেঞ্চে দেহাদ্রাই দাবি করেন, মহুয়ার আবেদনের কোনও আইনি ভিত্তি নেই এবং ট্রায়াল কোর্টের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হোক। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মহুয়া মৈত্রের জবাব না শুনে কোনও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আগামী ১৪ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই আইনি যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁদের প্রিয় পোষ্য রটওয়াইলার ‘হেনরি’। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ট্রায়াল কোর্ট মহুয়া মৈত্রের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল, যেখানে তিনি প্রতি মাসে ১০ দিনের জন্য হেনরির হেফাজত চেয়েছিলেন। জয় দেহাদ্রাইকেও আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, এই কুকুর সংক্রান্ত কোনও বিতর্ক তিনি প্রকাশ্যে প্রচার করতে পারবেন না। দেহাদ্রাই এই নির্দেশকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন।
মহুয়া ও জয়ের এই ব্যক্তিগত বিবাদ জাতীয় রাজনীতিতেও তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। জয় দেহাদ্রাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই ‘টাকা নিয়ে প্রশ্নে’র (Cash-for-query) অভিযোগে মহুয়া মৈত্রকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যদিও মহুয়া সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেন।
সংসদীয় লগইন আইডি শেয়ার করা থেকে শুরু করে মানহানির মামলা, একাধিক আইনি লড়াইয়ের মাঝেই এবার ‘হেনরি’র অধিকার নিয়ে দুই প্রাক্তন বন্ধুর লড়াই আদালতের অলিন্দে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন