Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তৃণমূলে ভয়াবহ ভাঙন, ২০ সাংসদের ‘বিদ্রোহ’! অস্তিত্ব বাঁচাতে এবার রাহুলের দরবারে অভিষেক, দিল্লির ১০ জনপথে দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক!

তৃণমূলে ভয়াবহ ভাঙন, ২০ সাংসদের ‘বিদ্রোহ’! অস্তিত্ব বাঁচাতে এবার রাহুলের দরবারে অভিষেক, দিল্লির ১০ জনপথে দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক!
ছবি--প্রতীকী

নয়াদিল্লি: চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর বাংলার রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন উলটপুরাণ। একসময়ের প্রবল প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের হাত ধরেই এবার দিল্লির দরবারে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার ১০ জনপথে গিয়ে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ বুধবার সকালে সনিয়ার বাসভবনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, দুই নেতার মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্পরিক মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে কীভাবে বিজেপি বিরোধিতায় এককাট্টা হওয়া যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও এই বৈঠকের নেপথ্যে খোদ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


হঠাৎ করে কংগ্রেসের প্রতি তৃণমূলের এই চরম নরম মনোভাবের আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে দলের অন্দরের এক ভয়ংকর সংকটে। বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার কার্যত খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। পরিষদীয় দলের পর এবার খোদ সংসদীয় দলেও ধরেছে মারাত্মক ভাঙন। জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন লোকসভার সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন এবং তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। দলের এই ঐতিহাসিক দুর্দিনে যখন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, ঠিক তখনই দিল্লিতে গান্ধী পরিবারের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া মমতা-অভিষেকের কাছে আর কোনো বিকল্প রাস্তা খোলা ছিল না বলেই দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।


মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তিতে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বিশেষ পুজো


সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকেই মমতা ও সনিয়ার এক অভূতপূর্ব সৌজন্যসাক্ষাৎ এবং আলিঙ্গনের ছবি সামনে এসেছিল। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক যখন সনিয়ার বাসভবনে মমতা বৈঠক করছিলেন, তখনই কলকাতায় সই জাল-কাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে মমতার বাড়ির ঠিক পাশেই তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। অতীতে রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে মমতা একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেও, রাজীব গান্ধীর আমল থেকে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত রসায়ন সবসময়ই মধুর থেকেছে। বাংলায় ভরাডুবির পর তৃণমূল নেত্রী নিজেই কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছিলেন। আর এবার নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং দলের বিদ্রোহী সাংসদদের সামাল দিতে পিসির সেই পুরোনো সম্পর্ককে হাতিয়ার করেই রাহুল গান্ধীর দুয়ারে ছুটলেন ভাইপো অভিষেক। এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর দিল্লির রাজনীতি কোন নতুন সমীকরণের সাক্ষী হয়, এখন সেটাই দেখার।

বিষয় : ABHISEKH BANERJEE TrinamoolCongress indiaalliance delhipolitics soniagandhi

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


তৃণমূলে ভয়াবহ ভাঙন, ২০ সাংসদের ‘বিদ্রোহ’! অস্তিত্ব বাঁচাতে এবার রাহুলের দরবারে অভিষেক, দিল্লির ১০ জনপথে দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক!

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর বাংলার রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন উলটপুরাণ। একসময়ের প্রবল প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের হাত ধরেই এবার দিল্লির দরবারে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার ১০ জনপথে গিয়ে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ বুধবার সকালে সনিয়ার বাসভবনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, দুই নেতার মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্পরিক মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে কীভাবে বিজেপি বিরোধিতায় এককাট্টা হওয়া যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও এই বৈঠকের নেপথ্যে খোদ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।হঠাৎ করে কংগ্রেসের প্রতি তৃণমূলের এই চরম নরম মনোভাবের আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে দলের অন্দরের এক ভয়ংকর সংকটে। বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার কার্যত খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। পরিষদীয় দলের পর এবার খোদ সংসদীয় দলেও ধরেছে মারাত্মক ভাঙন। জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন লোকসভার সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন এবং তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। দলের এই ঐতিহাসিক দুর্দিনে যখন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, ঠিক তখনই দিল্লিতে গান্ধী পরিবারের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া মমতা-অভিষেকের কাছে আর কোনো বিকল্প রাস্তা খোলা ছিল না বলেই দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তিতে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বিশেষ পুজোসোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকেই মমতা ও সনিয়ার এক অভূতপূর্ব সৌজন্যসাক্ষাৎ এবং আলিঙ্গনের ছবি সামনে এসেছিল। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক যখন সনিয়ার বাসভবনে মমতা বৈঠক করছিলেন, তখনই কলকাতায় সই জাল-কাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে মমতার বাড়ির ঠিক পাশেই তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। অতীতে রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে মমতা একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেও, রাজীব গান্ধীর আমল থেকে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত রসায়ন সবসময়ই মধুর থেকেছে। বাংলায় ভরাডুবির পর তৃণমূল নেত্রী নিজেই কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছিলেন। আর এবার নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং দলের বিদ্রোহী সাংসদদের সামাল দিতে পিসির সেই পুরোনো সম্পর্ককে হাতিয়ার করেই রাহুল গান্ধীর দুয়ারে ছুটলেন ভাইপো অভিষেক। এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর দিল্লির রাজনীতি কোন নতুন সমীকরণের সাক্ষী হয়, এখন সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার