কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গে কেন কেন্দ্রের এই জনমুখী স্বাস্থ্য প্রকল্প কার্যকর করা হয়নি, তা নিয়ে এবার নবান্নের হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে তাদের অবস্থান হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে।
এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলার সাধারণ মানুষ। মামলার শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেয় যে, রাজ্য সরকার কেন এই প্রকল্প থেকে সরে এল এবং বর্তমান পরিস্থিতি কী, তা বিস্তারিত জানাতে হবে। রাজ্যের হলফনামা জমা পড়ার পর পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারীকেও তাঁর জবাবি হলফনামা পেশ করতে হবে।
শমীক ভট্টাচার্যের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় এই স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে।
কেন্দ্রের দাবি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি দুঃস্থ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজস্ব ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প চালু করায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রহণে অনিচ্ছুক। বিরোধীদের দাবি, রাজনৈতিক কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে রাজ্য।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রের দাবি ও হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান রাজ্যের শাসক দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে রাজ্য কী যুক্তি সাজায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আর্থিকভাবে দুর্বল নাগরিকদের বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার আওতায় আনতে এই প্রকল্প চালু করেছিল মোদী সরকার। প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীর বয়স নূন্যতম ১৮ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন