Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভোটের মুখে আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া পাঁচ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘উন্নয়ন বোর্ড’ ঘোষণা রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬
ভোটের মুখে আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া পাঁচ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘উন্নয়ন বোর্ড’ ঘোষণা রাজ্যের
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতেই কি এবার বড় পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? শুক্রবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে রাজ্যের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ‘সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। মুণ্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার এবং সদগোপ - এই পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা বোর্ড তৈরি করে তাঁদের ভাষা, ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজ্য সরকার।


মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নবগঠিত বোর্ডগুলি মূলত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির স্বার্থেই গঠন করা হয়েছে। যেমন - মুন্ডা ও কোরা বোর্ড গঠিত হয়েছে তফসিলি উপজাতির (ST) জন্য। তফসিলি জাতির (SC) জন্য থাকছে ডোম বোর্ড। সদগোপ ও কুম্ভকার বোর্ড গঠিত হয়েছে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) জন্য। 


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গভীর নির্বাচনী সমীকরণ। মুণ্ডা, কোরা এবং ডোম জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাস করে জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে (বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম)। ২০১৯ সালের লোকসভায় এই অঞ্চলে বিজেপি শক্তিশালী হলেও ২০২৪-এ তৃণমূল অনেকটা জমি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। এই ‘উন্নয়ন বোর্ড’গুলি গঠনের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য আরও পোক্ত করতে চাইছে শাসকদল। একইসঙ্গে, উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কেও থাবা বসানো তৃণমূলের লক্ষ্য বলেও মনে করা হচ্ছে। 


সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। ‘নিরাপত্তার কারণে’ রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন এবং মুখ্যমন্ত্রী বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে না যাওয়ায় ‘আদিবাসী অবমাননা’র অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী তৃণমূলকে এই ইস্যুতে আক্রমণ করেছেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির ‘আদিবাসী পরিচয়’কে অস্ত্র করে বিজেপি যে প্রচার শুরু করেছে, তা রুখতেই তড়িঘড়ি এই উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা করলেন মমতা। পিছিয়ে পড়া এই পাঁচ জনগোষ্ঠীর মন জয় করে বিজেপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই এখন তৃণমূলের মূল কৌশল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসীদের জন্য কী কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান দিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে সাক্ষাতের আর্জি জানিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সেই সময় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। আগামী সপ্তাহে পুনরায় সাক্ষাতের আবেদন করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

বিষয় : Mamata Banerjee West Bengal Election 2026 West Bengal Politics DevelopmentBoards Munda Kora DomCommunity Kumbhakar Sadgope Jangalmahal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ভোটের মুখে আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া পাঁচ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘উন্নয়ন বোর্ড’ ঘোষণা রাজ্যের

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতেই কি এবার বড় পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? শুক্রবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে রাজ্যের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ‘সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। মুণ্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার এবং সদগোপ - এই পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা বোর্ড তৈরি করে তাঁদের ভাষা, ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নবগঠিত বোর্ডগুলি মূলত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির স্বার্থেই গঠন করা হয়েছে। যেমন - মুন্ডা ও কোরা বোর্ড গঠিত হয়েছে তফসিলি উপজাতির (ST) জন্য। তফসিলি জাতির (SC) জন্য থাকছে ডোম বোর্ড। সদগোপ ও কুম্ভকার বোর্ড গঠিত হয়েছে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) জন্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গভীর নির্বাচনী সমীকরণ। মুণ্ডা, কোরা এবং ডোম জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাস করে জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে (বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম)। ২০১৯ সালের লোকসভায় এই অঞ্চলে বিজেপি শক্তিশালী হলেও ২০২৪-এ তৃণমূল অনেকটা জমি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। এই ‘উন্নয়ন বোর্ড’গুলি গঠনের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য আরও পোক্ত করতে চাইছে শাসকদল। একইসঙ্গে, উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কেও থাবা বসানো তৃণমূলের লক্ষ্য বলেও মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। ‘নিরাপত্তার কারণে’ রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন এবং মুখ্যমন্ত্রী বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে না যাওয়ায় ‘আদিবাসী অবমাননা’র অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী তৃণমূলকে এই ইস্যুতে আক্রমণ করেছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির ‘আদিবাসী পরিচয়’কে অস্ত্র করে বিজেপি যে প্রচার শুরু করেছে, তা রুখতেই তড়িঘড়ি এই উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা করলেন মমতা। পিছিয়ে পড়া এই পাঁচ জনগোষ্ঠীর মন জয় করে বিজেপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই এখন তৃণমূলের মূল কৌশল।এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসীদের জন্য কী কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান দিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে সাক্ষাতের আর্জি জানিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সেই সময় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। আগামী সপ্তাহে পুনরায় সাক্ষাতের আবেদন করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার