কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই মুখোমুখি সংঘাতে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের গণ-বদল এবং ভিনরাজ্যে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে 'অসাংবিধানিক' আখ্যা দিয়ে স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্য়েই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজি এবং একাধিক জেলার ডিএম-এসপিদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকী, অনেককে ভিনরাজ্যে বদলি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, কমিশনের কাজ ভোট পরিচালনা করা। কিন্তু, আইএএস বা আইপিএস আধিকারিকদের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বদলি করার ক্ষমতা কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা রুজুর অনুমতি দিয়েছে। আগামী সোমবার এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' এবং 'গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক' বলে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একের পর এক কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এভাবে পাইকারি হারে আধিকারিক বদল করলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, কমিশনের বর্তমান কার্যপদ্ধতি সাংবিধানিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করেছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চলাকালীন এই ধরনের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ বিরোধী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির মাঝেই বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যের প্রশাসনিকস্তরে ফের একদফা রদবদল ঘটায় কমিশন। একাধিক আইপিএস ও আইএএস অফিসারকে নির্বাচনী কাজ থেকে সরিয়ে ভিনরাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনের যুক্তি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই এই রদবদল প্রয়োজনীয়।
এখন দেখার, সোমবার হাইকোর্ট এই প্রশাসনিক রদবদলের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয় কিনা। আদালতের রায়ের উপরই নির্ভর করছে রাজ্যের নির্বাচনী ডামাডোলের ভবিষ্যৎ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন