Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভবানীপুরে ভাঙা রেকর্ড! 'ঘরের মেয়ে' বনাম 'বহিরাগত' প্রচারে শাণ তৃণমূলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬
ভবানীপুরে ভাঙা রেকর্ড! 'ঘরের মেয়ে' বনাম 'বহিরাগত' প্রচারে শাণ তৃণমূলের

কলকাতা: নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক হারের ক্ষত কি এখনও টাটকা? ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে খোদ নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর রক্ষা করতে এবার যেন দিশেহারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! একদিকে যখন বাংলার ভূমিপুত্র তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন, তখন ঘর বাঁচাতে কার্যত মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো সোমবার থেকে রাজ্য সফর শুরুর আগে রবিবার তড়িঘড়ি চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে ডাকলেন ‘জরুরি’ কর্মিসভা। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের ডালি খালি বলেই এবার ফের সেই পুরনো এবং জীর্ণ ‘বহিরাগত’ তাস খেলতে বাধ্য হচ্ছেন মমতা।


পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুর আর তৃণমূলের নিরাপদ দুর্গ নেই। লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতেই লিড নিয়েছে বিজেপি। তার উপর ভোটারতালিকা সংশোধনীতে (SIR) প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং ১৪ হাজার ভোটারের নাম ঝুলে থাকা - সব মিলিয়ে মমতার পায়ের তলার মাটি এখন আলগা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে বুথ স্তরের বিএলএ-২ কর্মীদের নিয়ে বারবার বৈঠক করতে হচ্ছে। নিজের কেন্দ্রে জিততে সুব্রত বক্সী ও ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েটদের আলাদা আলাদা ওয়ার্ডের পাহারায় বসিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়নের জোয়ার যদি বয়েই থাকে, তবে কেন নিজের গড় বাঁচাতে এত সেনাপতি মোতায়েন করতে হচ্ছে মমতাকে?


তৃণমূল এবার স্লোগান তুলেছে - ‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। কিন্তু, ঘটনা হল, যে শুভেন্দু অধিকারী এই বাংলারই সন্তান, যাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে নন্দীগ্রামের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছিল মমতাকে, সেই ভূমিপুত্রকেই এবার ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়ার মতো হাস্যকর চেষ্টা করছে শাসকদল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, মমতার হাতে আর কোনও নতুন কৌশল নেই। ২০২১-এ ‘বাংলার মেয়ে’ তকমা দিয়ে আবেগ উস্কে দিলেও, এবার ভবানীপুরের সচেতন মানুষ সেই ভাঁওতাবাজিতে পা দিতে নারাজ। অন্তত এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 


বিজেপি শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বুঝতে পারছেন যে ভবানীপুরের মানুষ আর শুধু মুখের কথায় ভোলেন না। একদিকে দুর্নীতিতে বিদ্ধ সরকার, অন্যদিকে গত লোকসভার ফলাফলের ট্রেন্ড - সব মিলিয়ে ‘ঘরের মেয়ে’ কার্ড এবার ব্যর্থ হওয়ার পথে। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যেই স্পষ্ট, দিদির নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তাঁরা প্রচণ্ড চাপে রয়েছেন।


অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী শনিবার সকালেই কালীঘাটে পুজো দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ার পাত্র নন। আত্মতুষ্টি ঝেড়ে ফেলে বিজেপি যখন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে, তখন মমতা ব্যস্ত সুব্রত বক্সী আর ফিরহাদদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে দুর্গ রক্ষা করতে। ২৯ এপ্রিলের ভোট কি তবে নন্দীগ্রামের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে ভবানীপুরে? জবাব পাওয়া যাবে আগামী ৪ মে। 

বিষয় : Mamata Banerjee West Bengal Election 2026 Suvendu Adhikary

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ভবানীপুরে ভাঙা রেকর্ড! 'ঘরের মেয়ে' বনাম 'বহিরাগত' প্রচারে শাণ তৃণমূলের

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক হারের ক্ষত কি এখনও টাটকা? ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে খোদ নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর রক্ষা করতে এবার যেন দিশেহারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! একদিকে যখন বাংলার ভূমিপুত্র তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন, তখন ঘর বাঁচাতে কার্যত মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো সোমবার থেকে রাজ্য সফর শুরুর আগে রবিবার তড়িঘড়ি চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে ডাকলেন ‘জরুরি’ কর্মিসভা। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের ডালি খালি বলেই এবার ফের সেই পুরনো এবং জীর্ণ ‘বহিরাগত’ তাস খেলতে বাধ্য হচ্ছেন মমতা।পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুর আর তৃণমূলের নিরাপদ দুর্গ নেই। লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতেই লিড নিয়েছে বিজেপি। তার উপর ভোটারতালিকা সংশোধনীতে (SIR) প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং ১৪ হাজার ভোটারের নাম ঝুলে থাকা - সব মিলিয়ে মমতার পায়ের তলার মাটি এখন আলগা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে বুথ স্তরের বিএলএ-২ কর্মীদের নিয়ে বারবার বৈঠক করতে হচ্ছে। নিজের কেন্দ্রে জিততে সুব্রত বক্সী ও ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েটদের আলাদা আলাদা ওয়ার্ডের পাহারায় বসিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়নের জোয়ার যদি বয়েই থাকে, তবে কেন নিজের গড় বাঁচাতে এত সেনাপতি মোতায়েন করতে হচ্ছে মমতাকে?তৃণমূল এবার স্লোগান তুলেছে - ‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। কিন্তু, ঘটনা হল, যে শুভেন্দু অধিকারী এই বাংলারই সন্তান, যাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে নন্দীগ্রামের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছিল মমতাকে, সেই ভূমিপুত্রকেই এবার ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়ার মতো হাস্যকর চেষ্টা করছে শাসকদল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, মমতার হাতে আর কোনও নতুন কৌশল নেই। ২০২১-এ ‘বাংলার মেয়ে’ তকমা দিয়ে আবেগ উস্কে দিলেও, এবার ভবানীপুরের সচেতন মানুষ সেই ভাঁওতাবাজিতে পা দিতে নারাজ। অন্তত এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিজেপি শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বুঝতে পারছেন যে ভবানীপুরের মানুষ আর শুধু মুখের কথায় ভোলেন না। একদিকে দুর্নীতিতে বিদ্ধ সরকার, অন্যদিকে গত লোকসভার ফলাফলের ট্রেন্ড - সব মিলিয়ে ‘ঘরের মেয়ে’ কার্ড এবার ব্যর্থ হওয়ার পথে। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যেই স্পষ্ট, দিদির নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তাঁরা প্রচণ্ড চাপে রয়েছেন।অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী শনিবার সকালেই কালীঘাটে পুজো দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ার পাত্র নন। আত্মতুষ্টি ঝেড়ে ফেলে বিজেপি যখন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে, তখন মমতা ব্যস্ত সুব্রত বক্সী আর ফিরহাদদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে দুর্গ রক্ষা করতে। ২৯ এপ্রিলের ভোট কি তবে নন্দীগ্রামের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে ভবানীপুরে? জবাব পাওয়া যাবে আগামী ৪ মে। 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার