বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদি খুনের তদন্তে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল ভারত। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ-এর জালে ধরা পড়া দুই মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনের মামলার দায়িত্ব নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। শনিবার বিশেষ এনআইএ আদালত ধৃতদের জেলে গিয়ে জেরা করার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর UAPA (১৬ ও ১৮ নম্বর ধারা) যুক্ত করার আবেদনও মঞ্জুর করেছে।
আদালত থেকে জেলে ফেরার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল। হাদি হত্যাকাণ্ডে নিজের দায় অস্বীকার করে সে দাবি করে, “এটি জামায়াতের চাল হতে পারে।” ফয়সালের অভিযোগ, জামায়াতই তাকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। হাদিকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে সে আরও বলে, “আপনারা কেন এত হাদি হাদি করছেন? ও তো জামায়াতেরই একটা জঙ্গি।” অথচ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকাতেই হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মূল পান্ডা ছিল এই ফয়সালই।
ফয়সাল ও আলমগীরকে জেরা করে গত ১৪ মার্চ নদিয়ার শান্তিপুর বাইপাস থেকে ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি দালালকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। অভিযোগ, এই ফিলিপই সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সালদের ভারতে গা ঢাকা দিতে সাহায্য করেছিল। এদিকে, ভারতের মাটিতে ধৃত এই অপরাধীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে জোরদার তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান (IGP) আলি হোসেন ফকির।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওসমান হাদির। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে ধরতে এখন এনআইএ-র এই তদন্তই মূল চাবিকাঠি হতে চলেছে। ফয়সালের এই নতুন ‘জামায়াত তত্ত্ব’ কি নিছক বাঁচার চেষ্টা, না কি এর পেছনে অন্য কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে— তা-ই এখন দেখার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন