কলকাতা: একের পর এক বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের। গত শুক্রবার হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে আটকে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার হস্তক্ষেপ করতে কার্যত রাজি হয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এই বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এই মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা।
গত শুক্রবার ভোরে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর জি করে এসেছিলেন অরূপ। অভিযোগ, ট্রমা কেয়ার ইউনিটের কাছে শৌচালয় না থাকায় ছেলেকে নিয়ে লিফটে ওঠেন তিনিও তাঁর স্ত্রী। সঙ্গে তাঁদের ছোট্ট সন্তানও ছিল। কিন্তু, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফটটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বেসমেন্টে আটকে পড়ে। যান্ত্রিক জটিলতায় লিফটের দরজা ও সিমেন্টের দেওয়ালের ঘর্ষণে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অরূপের।
এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্য়েই অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিন লিফটম্যান ও দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের অগস্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর আর জি কর হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। সোমবারও বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক রোগীর মৃত্যুতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য একটি স্ট্রেচার পর্যন্ত মেলেনি! এমনকী, রোগীকে সুলভ শৌচালয়ে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ। যার ফলে হাঁটতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়ে প্রাণ হারান ওই ব্যক্তি।
আদালত লিফটে মৃত্যুর মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। মামলাকারীর আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতি মামলার অনুমতি দিয়েছেন। এখন দেখার, আদালতের হস্তক্ষেপে আর জি করের জরাজীর্ণ পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থার কোনও আমূল পরিবর্তন ঘটে কিনা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন