ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। নির্দেশ ছিল, সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে কোনোভাবেই আতিথেয়তা বা নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়ায় মুর্শিদাবাদে মোতায়েন থাকা সাতজন কেন্দ্রীয় জওয়ানকে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে হলো। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ওই সাতজনকেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে অন্য রাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদে, যেখানে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান স্থানীয়দের আমন্ত্রণে একটি ইফতার পার্টিতে শামিল হন। বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে কমিশন। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর সাতজন অভিযুক্ত জওয়ানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে সাত দিনের জন্য প্যারামিলিটারি কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে এবং দু’জনকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন। বাকি দু’জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের এই রাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
উল্লেখ্য, বাংলায় ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখছে কমিশন। বাহিনীর জওয়ানরা যাতে কোনোভাবেই স্থানীয়দের সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্যতা বা প্রভাবে জড়িয়ে না পড়েন, তার জন্য আগেই বিশেষ নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেই নিয়মে স্পষ্ট বলা ছিল, জওয়ানরা কারও বাড়িতে গিয়ে খাবার খেতে পারবেন না বা অন্য কোথাও নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে পারবেন না। এই সাত জওয়ানকে শাস্তি দিয়ে কমিশন আসলে সমস্ত আধিকারিক ও জওয়ানদের এই বার্তাই দিতে চাইল যে, নির্বাচনী নির্দেশ অমান্য করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন