বসিরহাট: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়াল বসিরহাটে। বসিরহাট-২ ব্লকের বিবিপুর-বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় গোবরা এলাকায় ৩৪০ জন মুসলিম ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাদ পড়া ভোটারদের তালিকায় রয়েছেন খোদ বুথ লেভেল অফিসার (BLO) সফিউল আলমও। সোমবার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হতেই এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে।
গত বছর অক্টোবর মাসে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট (SIR) ঘোষণা করেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম 'বিচারাধীন' বা আন্ডার স্ক্রুটিনি হিসেবে রাখা হয়েছিল। বড় গোবরার এই ৩৪০ জন ভোটারও সেই তালিকায় ছিলেন। আশা করা হয়েছিল, অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁদের নাম উঠে আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, প্রথম দফার সেই তালিকায় ৩৪০ জনের প্রত্যেকের নামই বাদ (Deleted) দেওয়া হয়েছে।
খোদ বিএলও সফিউল আলম এই ঘটনায় স্তম্ভিত। তিনি জানিয়েছেন, "আমি নিজে প্রত্যেকের নথি যাচাই করে আপলোড করেছি। কয়েকজনের সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু সবার নাম কেন বাদ গেল তা বোধগম্য নয়।" এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, "বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই কমিশন এই কাজ করছে।" এই গণ-বাতিল প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নজরদারিতে এই ট্রাইব্যুনাল কাজ করবে। কমিশনের স্পষ্ট আশ্বাস, "যদি আবেদনকারীদের কাছে সঠিক নথি থাকে, তবে কারোর নাম বাদ যাবে না। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেই যথাযথ বিচার মিলবে।"

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন