ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় রণদামামার মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকার চাপানো ১৫ দফা শর্তের অধিকাংশতেই সায় দিয়েছে ইরান। শুধু তাই নয়, সমঝোতার পথে ‘আন্তরিকতা’ প্রমাণ করতে তেহরান আমেরিকাকে ২০টি তেলবোঝাই জাহাজ ‘উপহার’ হিসেবে পাঠাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রবিবাসরীয় এই ঘোষণায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকেই ট্রাম্পের একটি রহস্যময় মন্তব্য ঘিরে জল্পনা চলছিল যে, তেহরান তাঁকে একটি বিশেষ ‘উপহার’ দিয়েছে। রবিবার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সেই রহস্যের উন্মোচন করেন। তিনি জানান, ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাইছে এবং তার প্রমাণস্বরূপ ১০টির বদলে এখন ২০টি তেলবাহী জাহাজ পাঠাচ্ছে আমেরিকাকে। আগামীকাল থেকেই এই তেল সরবরাহ শুরু হবে বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
গত সপ্তাহে পাকিস্তান মারফত ইরানের কাছে ১৫টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও ইরান প্রকাশ্যে জানিয়েছিল তারা এখনই আলোচনায় বসতে নারাজ, কিন্তু ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁর কথায়, “ওরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ১৫টি দাবির বেশির ভাগই মেনে নিয়েছে। আর মানবে না-ই বা কেন? আমরা যা ভাবছি, তার সঙ্গে ওরাও একমত।” তবে কোন কোন শর্তে তেহরান রাজি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত খোলসা করেননি তিনি।
ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক দাবির প্রেক্ষিতে ইরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, যদি ট্রাম্পের দাবি সত্যি হয়, তবে তা হবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক বিরাট মোড়। কারণ, একদিকে ইরান যখন ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়ছে, তখন আমেরিকার সঙ্গে এই গোপন সমঝোতা পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
আপাতত সবার নজর আগামীকালকের দিকে— সত্যি কি ইরানের তেলের জাহাজ আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেয়? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন