রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের নির্ঘণ্ট বাজতেই ভোটার তালিকা এক প্রকার চূড়ান্ত করে ফেলল নির্বাচন কমিশন। তবে এই তালিকা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepancy) তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ৪৫ লক্ষ যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব মিলিয়ে ৮০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, এই ৮০ লক্ষের মধ্যে যেমন মৃত, ডুপ্লিকেট (একই ব্যক্তির একাধিক নাম) বা অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটাররা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন অযোগ্য এবং 'আন-ম্যাপড' ভোটাররা। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে জুডিশিয়াল অফিসাররা যাচাই করে এই বিশাল সংখ্যক আবেদন বাতিল করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, যাচাই হওয়া আবেদনের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশই অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ এবং দুই মেদিনীপুরসহ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে। গত সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া, যা চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রথম দফার কেন্দ্রগুলিতে আর কোনো নাম যাচাইয়ের কাজ হবে না। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এখনও মামলা চলছে। যদিও কমিশনের দাবি, একবার ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে আইনি জটিলতায় তা আটকে যাওয়ার নজির নেই।
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারের অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছেন কমিশনের কর্তারা। তাঁদের মতে, রাজ্য সরকার গোড়া থেকেই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টিই দেশের শীর্ষ আদালতের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে এবং এতে কমিশনের আর বিশেষ কিছু করার নেই।
এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। একজন যোগ্য ভোটারের নামও যদি বাদ পড়ে, তবে সেই নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন