কলকাতা: বঙ্গ ভোটের মুখে এবার তৃণমূলের বড়সড় অভিযোগ খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন! সিইও অফিসে ‘বস্তা-বস্তা’ ফর্ম ৬ জমা পড়ার যে দাবি সোমবার তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তা কার্যত নস্যাৎ করে দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা - সিইও অফিসে কোনও ফর্ম ৬ জমা পড়েনি। এবং এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
গত সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে বেশ কিছু ভিডিয়ো পোস্ট করেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, “আমরা হাতেনাতে ধরেছি। প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়ে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের বাংলার ভোটারতালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছিল, কমিশন এই ফর্ম জমা হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে।
তৃণমূলের এই দাবি ওড়াতে মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বিবৃতি দিয়েছে রাজ্যের সিইও অফিস। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সিইও অফিসে কোনও ফর্ম ৬ জমা নেওয়া হয় না। ভোটারতালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র অর্থাৎ ফর্ম ৬ জমা দিতে হয় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) অফিসে। সিইও দফতরে প্রতিদিন প্রচুর নথি জমা পড়ে। গত কয়েকদিনে যা জমা পড়েছে, তার বেশিরভাগটাই ২৮ তারিখ প্রকাশিত ভোটারতালিকায় ‘ডিলিটেড’ বা বাদ যাওয়া ভোটারদের নথিপত্র। তৃণমূল যে নথিপত্রগুলি ফর্ম ৬ বলে দাবি করছে, সেগুলি আসলে ভোটারতালিকায় নাম ঢোকানোর ফর্ম নয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বহিরাগত ভোটার’ তত্ত্ব বনাম কমিশনের এই আইনি ব্যাখ্যায় উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। তৃণমূল যেখানে অভিযোগ তুলছে যে অন্যান্য রাজ্য থেকে ভোটার এনে ভোট প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র চলছে, সেখানে কমিশন সরাসরি পদ্ধতিগত ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সেই দাবি নস্যাৎ করল। ভোটের আগে এই ‘ফর্ম’ যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন