কলকাতা: নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর ঘোরার অভিযোগে যখন সরব তৃণমূল কংগ্রেস, ঠিক তখনই নতুন করে ফের জেলা সফরে বেরোচ্ছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। শুক্রবার বীরভূম এবং শনিবার মুর্শিদাবাদ সফরে যাচ্ছেন তিনি। ২৩ এপ্রিল এই দুই জেলাতেই প্রথম দফার ভোটগ্রহণ করা হবে।
গত শনিবার নন্দীগ্রাম সফরে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন মনোজকুমার আগরওয়াল। তৃণমূলের দাবি, সিইও যখন নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছিলেন, তখন তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল স্থানীয় এক বিজেপি নেতাকে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, সিইওর পাশে থাকা ব্যক্তির নাম তপনকুমার মহাপাত্র। তিনি নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর অঞ্চলের বিজেপির আহ্বায়ক এবং শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একজন নিরপেক্ষ নির্বাচন আধিকারিক কীভাবে রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে ঘুরতে পারেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবির।
সিইও আগরওয়ালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে ইতিমত্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, সিইওর এই আচরণ ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ‘দুর্নীতিমূলক আচরণ’-এর পর্যায়ে পড়ে।
এই নন্দীগ্রাম কাণ্ডের রেশ বীরভূম বা মুর্শিদাবাদে পড়ে কিনা, সেটাই এখন দেখার। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন মনোজকুমার আগরওয়াল। ভোট প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন তিনি। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করাই তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য বলে কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। সিইওর এই দুই জেলা সফরকে ঘিরে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের স্পর্শকাতর বুথগুলি নিয়ে তিনি কী বিশেষ নির্দেশ দেন, এখন নজর থাকবে সেদিকেই।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন