Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তৃণমূলের ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগরই কি এই ভিনেশ চান্ডেল? কেন ভোটের ১০ দিন আগে হলেন টার্গেট?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
তৃণমূলের ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগরই কি এই ভিনেশ চান্ডেল? কেন ভোটের ১০ দিন আগে হলেন টার্গেট?
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে 'ভোটকুশলী' বা 'স্ট্র্যাটেজিস্ট' শব্দগুলি এখন আর নতুন নয়। কিন্তু, যাঁদের মস্তিস্কে এই জটিল রণকৌশল তৈরি হয়, তাঁদের একটা অংশ বরাবরই থাকেন প্রচারের আলোর আড়ালে। ভিনেশ চান্ডেল তেমনই একজন মানুষ। কিন্তু, আসন্ন নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে দিল্লির আবহাওয়া বদলে দিয়ে যখন তাঁকে গ্রেফতার করল ইডি, তখন প্রশ্নটা আর কেবল কয়লাপাচার মামলার আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ রইল না! প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তৃণমূলের নির্বাচনী যন্ত্রের প্রধান গিয়ারটিকেই অকেজো করার চেষ্টা হচ্ছে?


কে এই ভিনেশ চান্ডেল?

সাধারণ মানুষের কাছে ভিনেশ চান্ডেল নামটি অপরিচিত হতে পারে। কিন্তু, আই-প্যাকের অন্দরে তিনি অন্যতম স্তম্ভ। প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে যে আই-প্যাকের উত্থান, তার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম ডিরেক্টর হলেন এই ভিনেশ।

সূত্রের দাবি, আই-প্যাকের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার ক্ষেত্রে ভিনেশ অন্যতম প্রধান মুখ। গত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের যে হাই-টেক প্রচার পদ্ধতি আমরা দেখেছি, তার নেপথ্যে অন্যতম কারিগর তিনি। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রতিটি নির্বাচনী কর্মসূচি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিরোধী শিবিরের নাড়ি-নক্ষত্র বুঝে কাউন্টার-অ্যাটাক সাজানোর গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। প্রশান্ত কিশোর এই সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার পর প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিংয়ের সঙ্গে মিলে ভিনেশই ছিলেন আই-প্যাকের চালিকাশক্তি।


এই গ্রেফতারি কি নিছকই কয়লাপাচারের তদন্ত নাকি অন্য রণকৌশল?


কয়লাপাচার মামলায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ভিনেশকে গ্রেফতার করা হলেও, তাঁর গ্রেফতারির এই সময়টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জেলাস্তরের রিপোর্ট সংগ্রহ এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার কাজে আই-প্যাক ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই গ্রেফতারি প্রতিষ্ঠানের মনোবলে ধাক্কা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। 


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে 'ভয় দেখানোর রাজনীতি' বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, যখন নির্বাচনের ময়দান সকলের জন্য সমান হওয়ার কথা (Level Playing Field), তখনই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে এক পক্ষকে চাপে ফেলা হচ্ছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে আই-প্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে হাজির হওয়া প্রমাণ করে দিয়েছিল যে - এই সংস্থাটি তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য কতটা জরুরি!


ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভিনেশ চান্ডেলের মতো একজন অভিজ্ঞ স্ট্র্যাটেজিস্টের অনুপস্থিতি তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যেমন - 


ডেটা অ্যানালিসিসে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কারণ, ভোটের মুখে বুথস্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রার্থীদের পরামর্শ দেওয়ার কাজে ভিনেশ দক্ষ ছিলেন বলে শোনা যায়। তাছাড়া, আই-প্যাকের কর্মকর্তাদের উপর লাগাতার কেন্দ্রীয় নজরদারি সংস্থার কর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি যেখানে দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে, সেখানে আই-প্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারি সেই অভিযোগকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।


পরিশেষে বলা যায়, ভিনেশ চান্ডেলকে কেবলমাত্র একজন অভিযুক্ত হিসাবে নন, বরং আই-প্যাকের মস্তিষ্ক হিসাবেই চিনে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, তাঁর এই গ্রেফতারি কেবল একটি মামলার অংশ নয়। বরং, ২০২৬-এর নির্বাচনী মহাযুদ্ধের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়! এখন দেখার, এই গ্রেফতারি তৃণমূলের জয়যাত্রায় বাধা হয়, নাকি সহমর্মিতার ভোটে শাসকদলকে আরও শক্তিশালী করে তোলে!

বিষয় : Mamata Banerjee West Bengal Election 2026 Abhisheik Banerjee kolkatapolitics IPAC case VineshChandel

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


তৃণমূলের ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগরই কি এই ভিনেশ চান্ডেল? কেন ভোটের ১০ দিন আগে হলেন টার্গেট?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে 'ভোটকুশলী' বা 'স্ট্র্যাটেজিস্ট' শব্দগুলি এখন আর নতুন নয়। কিন্তু, যাঁদের মস্তিস্কে এই জটিল রণকৌশল তৈরি হয়, তাঁদের একটা অংশ বরাবরই থাকেন প্রচারের আলোর আড়ালে। ভিনেশ চান্ডেল তেমনই একজন মানুষ। কিন্তু, আসন্ন নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে দিল্লির আবহাওয়া বদলে দিয়ে যখন তাঁকে গ্রেফতার করল ইডি, তখন প্রশ্নটা আর কেবল কয়লাপাচার মামলার আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ রইল না! প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তৃণমূলের নির্বাচনী যন্ত্রের প্রধান গিয়ারটিকেই অকেজো করার চেষ্টা হচ্ছে?কে এই ভিনেশ চান্ডেল?সাধারণ মানুষের কাছে ভিনেশ চান্ডেল নামটি অপরিচিত হতে পারে। কিন্তু, আই-প্যাকের অন্দরে তিনি অন্যতম স্তম্ভ। প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে যে আই-প্যাকের উত্থান, তার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম ডিরেক্টর হলেন এই ভিনেশ।সূত্রের দাবি, আই-প্যাকের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার ক্ষেত্রে ভিনেশ অন্যতম প্রধান মুখ। গত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের যে হাই-টেক প্রচার পদ্ধতি আমরা দেখেছি, তার নেপথ্যে অন্যতম কারিগর তিনি। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রতিটি নির্বাচনী কর্মসূচি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিরোধী শিবিরের নাড়ি-নক্ষত্র বুঝে কাউন্টার-অ্যাটাক সাজানোর গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। প্রশান্ত কিশোর এই সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার পর প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিংয়ের সঙ্গে মিলে ভিনেশই ছিলেন আই-প্যাকের চালিকাশক্তি।এই গ্রেফতারি কি নিছকই কয়লাপাচারের তদন্ত নাকি অন্য রণকৌশল?কয়লাপাচার মামলায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ভিনেশকে গ্রেফতার করা হলেও, তাঁর গ্রেফতারির এই সময়টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জেলাস্তরের রিপোর্ট সংগ্রহ এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার কাজে আই-প্যাক ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই গ্রেফতারি প্রতিষ্ঠানের মনোবলে ধাক্কা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে 'ভয় দেখানোর রাজনীতি' বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, যখন নির্বাচনের ময়দান সকলের জন্য সমান হওয়ার কথা (Level Playing Field), তখনই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে এক পক্ষকে চাপে ফেলা হচ্ছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে আই-প্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে হাজির হওয়া প্রমাণ করে দিয়েছিল যে - এই সংস্থাটি তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য কতটা জরুরি!ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভিনেশ চান্ডেলের মতো একজন অভিজ্ঞ স্ট্র্যাটেজিস্টের অনুপস্থিতি তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যেমন - ডেটা অ্যানালিসিসে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কারণ, ভোটের মুখে বুথস্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রার্থীদের পরামর্শ দেওয়ার কাজে ভিনেশ দক্ষ ছিলেন বলে শোনা যায়। তাছাড়া, আই-প্যাকের কর্মকর্তাদের উপর লাগাতার কেন্দ্রীয় নজরদারি সংস্থার কর্মীদের কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি যেখানে দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে, সেখানে আই-প্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারি সেই অভিযোগকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।পরিশেষে বলা যায়, ভিনেশ চান্ডেলকে কেবলমাত্র একজন অভিযুক্ত হিসাবে নন, বরং আই-প্যাকের মস্তিষ্ক হিসাবেই চিনে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, তাঁর এই গ্রেফতারি কেবল একটি মামলার অংশ নয়। বরং, ২০২৬-এর নির্বাচনী মহাযুদ্ধের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়! এখন দেখার, এই গ্রেফতারি তৃণমূলের জয়যাত্রায় বাধা হয়, নাকি সহমর্মিতার ভোটে শাসকদলকে আরও শক্তিশালী করে তোলে!

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার