কলকাতা ও নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের ওপর সাঁড়াশি চাপ আরও বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সংস্থার অন্যতম কর্ণধার ভিনেশ চান্ডেল গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার ইডির স্ক্যানারে অপর ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের পরিবার। মঙ্গলবার প্রতীক জৈনের স্ত্রী বার্বি জৈন এবং ভাই পুলকিত জৈনকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, হাওয়ালা লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলকিত ও বার্বি জৈনকে ১৫ এপ্রিল - অর্থাৎ- আগামিকালই দিল্লিতে সদর দফতরে তলব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পুলকিত জৈন নিজেও আই-প্যাকের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সংস্থার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার রাতে দীর্ঘ নাটকীয়তার পর দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আই-প্যাকের ৩৩ শতাংশের অংশীদার তথা ডিরেক্টর বিনেশ চান্ডেলকে। মঙ্গলবার ভোররাতেই পাতিয়ালা হাউস কোর্ট তাঁকে ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়! দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআরের সূত্র ধরে এই অর্থপাচারের মামলার তদন্ত শুরু করেছিল ইডি। ভিনেশ তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল সাজানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আই-প্যাকের সেক্টর ফাইভের অফিসে ইডির তল্লাশি চলাকালীন সশরীরে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ ছিল, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিয়ে সেখান থেকে ফাইল ও ল্যাপটপ সরিয়ে আনেন। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও রুজু করে ইডি। তবে, মঙ্গলবারই সেই মামলার শুনানি শীর্ষ আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তাদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের এইভাবে গ্রেফতার কিংবা তলব করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই আইনি টানাপোড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন