কলকাতা: আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদী মুখেদের কি তবে ‘টার্গেট’ করেছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর? অনিকেত মাহাতোর পর এবার চিকিৎসক দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়ার বদলির নির্দেশও বাতিল করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এই পোস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ত্রুটিযুক্ত এবং এসওপি-বিরোধী।
গত বছর জুন মাসে জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা দেবাশিস, আসফাকুল্লা ও অনিকেতের বদলির নির্দেশ ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। মামলাকারীদের দাবি ছিল, নিয়মানুযায়ী সিনিয়র রেসিডেন্টদের কাছে পছন্দের জায়গার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার বিচারপতি জানান, স্বাস্থ্য-শিক্ষা দফতরের নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি মেনে এই বদলি করা হয়নি। পোস্টিং দেওয়ার যে পদ্ধতি কমিশন বা দফতর অবলম্বন করেছে, তা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। ফলস্বরূপ, আগের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়া হল এবং তাঁদের স্বপদে বহাল থাকার পথ প্রশস্ত হল।
আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর যে জুনিয়র ডাক্তাররা রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়া। অনিকেত মাহাতোর আমরণ অনশন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান - সর্বত্রই প্রথম সারিতে ছিলেন তাঁরা। তাই, হঠাৎ করেই এই তিনজনের বদলির নির্দেশ আসায় সরব হয়েছিল চিকিৎসক মহল। অভিযোগ উঠেছিল, আন্দোলনের ‘শাস্তি’ হিসাবেই প্রতিহিংসাবশত তাঁদের দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিন হাইকোর্টের রায়ে স্বাস্থ্য দফতরের মুখ পুড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, এর আগে অনিকেত মাহাতোর ক্ষেত্রেও একই পর্যবেক্ষণ করেছিল আদালত। পর-পর তিন প্রভাবশালী জুনিয়র ডাক্তারের বদলি রদ হওয়া আদতে স্বাস্থ্য দফতরের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ নীতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাল। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের মতে, এই জয় সত্যের জয় এবং সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতির যোগ্য জবাব।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন