Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভোটের মাঝপথেই বড় চমক! পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ করল আইপ্যাক, চরম বিপাকে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ভোটের মাঝপথেই বড় চমক! পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ করল আইপ্যাক, চরম বিপাকে তৃণমূল
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক পশ্চিমবঙ্গে তাদের সমস্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্মীদের ইমেল পাঠিয়ে আগামী ২০ দিনের জন্য ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


আইপ্যাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ১১ মে-র পর পুনরায় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের বাকি ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ মে ফল প্রকাশ হবে। অর্থাৎ আইপ্যাক যখন ফের কাজ শুরু করার কথা বলছে, ততক্ষণে রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নতুন সরকার গঠন— সবই সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। ফলে মোক্ষম সময়ে এই ভোটকুশলী সংস্থার হাত গুটিয়ে নেওয়া শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


শনিবার মধ্যরাতে কর্মীদের কাছে এই ইমেল পৌঁছানোর আগে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের অফিসে আইপ্যাকের কর্মীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, সংস্থার একটি অংশ বাড়ি থেকে বা অন্য উপায়ে কাজ জারি রাখবে, তবে গ্রাউন্ড লেভেলে থাকা বিপুল সংখ্যক কর্মী কীভাবে প্রচার সামলাবেন তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে সম্প্রতি আইপ্যাকের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছে ইডি, যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারও আগে আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানার সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছিলেন।


বর্তমানে আইপ্যাকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। শীর্ষ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকাকালীনই এই বড় সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি। আজ রবিবার একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বরে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরে জনসভা করবেন, ঠিক সেই সময়েই আইপ্যাকের এই প্রস্থান নির্বাচনী রণকৌশলে বড় কোনো বদল আনে কি না, সেটাই এখন দেখার। 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে এসে আইপ্যাকের মতো পেশাদার সংস্থার অনুপস্থিতি শাসকদলের বুথ ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল প্রচারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, রবিবারের নির্বাচনী সভাগুলো থেকে দলনেত্রী বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে মুখ খোলেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

বিষয় : Mamata Banerjee West Bengal Election 2026 ABHISEKH BANERJEE ipac EDRaid

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ভোটের মাঝপথেই বড় চমক! পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ করল আইপ্যাক, চরম বিপাকে তৃণমূল

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক পশ্চিমবঙ্গে তাদের সমস্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্মীদের ইমেল পাঠিয়ে আগামী ২০ দিনের জন্য ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ১১ মে-র পর পুনরায় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের বাকি ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ মে ফল প্রকাশ হবে। অর্থাৎ আইপ্যাক যখন ফের কাজ শুরু করার কথা বলছে, ততক্ষণে রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নতুন সরকার গঠন— সবই সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। ফলে মোক্ষম সময়ে এই ভোটকুশলী সংস্থার হাত গুটিয়ে নেওয়া শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।শনিবার মধ্যরাতে কর্মীদের কাছে এই ইমেল পৌঁছানোর আগে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের অফিসে আইপ্যাকের কর্মীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, সংস্থার একটি অংশ বাড়ি থেকে বা অন্য উপায়ে কাজ জারি রাখবে, তবে গ্রাউন্ড লেভেলে থাকা বিপুল সংখ্যক কর্মী কীভাবে প্রচার সামলাবেন তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে সম্প্রতি আইপ্যাকের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছে ইডি, যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারও আগে আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানার সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছিলেন।বর্তমানে আইপ্যাকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। শীর্ষ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকাকালীনই এই বড় সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি। আজ রবিবার একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বরে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরে জনসভা করবেন, ঠিক সেই সময়েই আইপ্যাকের এই প্রস্থান নির্বাচনী রণকৌশলে বড় কোনো বদল আনে কি না, সেটাই এখন দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে এসে আইপ্যাকের মতো পেশাদার সংস্থার অনুপস্থিতি শাসকদলের বুথ ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল প্রচারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, রবিবারের নির্বাচনী সভাগুলো থেকে দলনেত্রী বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে মুখ খোলেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার