বহরমপুর: তাঁরাই ভোট নিতে যাবেন বুথে-বুথে। কিন্তু, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেই কালঘাম ছুটছে ভোটকর্মীদের। বারবার লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যালট পেপার না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মুর্শিদাবাদের ভোটকর্মীরা। সোমবার বহরমপুরে জেলাশাসকের দফতরের সামনে দীর্ঘক্ষণ চলল বিক্ষোভ। এই অব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কার্যত ধুয়ে দিলেন বহরমপুরের বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র!
ঘটনার সূত্রপাত চারদিন আগে। দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণের সময় ভোটকর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে সেদিন তাঁদের ভোট নেওয়া সম্ভবই হয়নি! এরপর টানা চারদিন ধরে কার্যত কমিশনের দরজায়-দরজায় ঘুরেছেন ভোটকর্মীরা। এমনকী, সোমবার সকালেও কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয় - এখানে নয়, ভোট দিতে যেতে হবে নিজের-নিজের মহকুমায়!
এই ঘোষণা শোনামাত্রই ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায় ভোটকর্মীদের। এই হয়রানির প্রতিবাদে তাঁরা সরাসরি মুর্শিদাবাদ জেলাশাসকের অফিসের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এদিকে, এই খবর পেয়েই বিক্ষোভস্থলে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। ভোটকর্মীদের দুর্দশা দেখে সরাসরি আক্রমণ শানান কমিশনের দিকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "নির্বাচনে যাঁরা আসল কাজ করবেন, সেই ভোটকর্মীরাই যদি ভোট দিতে না পারেন, তবে এই নির্বাচনের কী মূল্য আছে? তাহলে কীসের নির্বাচন কমিশন?"
মুর্শিদাবাদে ভোটকর্মীদের হয়রানি এই প্রথম নয়। এর আগে লালবাগেও প্রশিক্ষণ চলাকালীন একই রকম অব্যবস্থার ছবি সামনে এসেছিল। এমনকী, আমতাতেও পোস্টাল ব্যালট না আসায় ভোটকর্মীরা পথ অবরোধ করেছিলেন। বারবার একই ভুল কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ভোটের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ার আগে এই বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী শেষ পর্যন্ত নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন