Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভারতকে সরিয়ে তিস্তায় ড্রাগন? বেজিংয়ে গিয়ে বড় চাল চালল বাংলাদেশ!

ভারতকে সরিয়ে তিস্তায় ড্রাগন? বেজিংয়ে গিয়ে বড় চাল চালল বাংলাদেশ!
প্রতীকী ছবি

ঢাকা: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড়সড় মোড়! তিস্তা নদী সংস্কার ও মহাসেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এবার সরাসরি চিনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বিদেশ সফরে বেজিংয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আর, তাঁর এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে এল বহুচর্চিত ‘তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’!



বিবিসি এবং বিএসএস নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পরিকল্পনার পোশাকি নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অফ তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’। ২০১৬ সাল থেকে এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও, ২০২৬-এর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা এখন চিনকেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রধান অংশীদার হিসাবে বেছে নিতে চাইছে।



২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে তিস্তা নদীর ১০২ কিলোমিটার এলাকা খনন করে গভীরতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, নদীর দু’পাড়ে ২০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে আওয়ামি লিগের সরকারের আমলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চিনের আগ্রহ থাকলেও, শেখ হাসিনা সরকার কৌশলগত কারণে ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেল।



ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ৫৬টি অভিন্ন নদীর মধ্যে তিস্তা অন্যতম। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের জলবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু থাকায় এই প্রকল্প অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামি আগে থেকেই চিনকে এই প্রকল্প দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেই প্রস্তাব সরকারি রূপ পাওয়ায় দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হলো বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।



শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার পাঁচটি নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও চিন একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ভারতের ঘরের কাছে তিস্তায় চিনের এই সক্রিয় প্রবেশ দক্ষিণ এশিয়ার জল-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

বিষয় : GEOPOLITICS indiabangladesh TEESTAPROJECT BANGLADESHCHINARELATIONS

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ভারতকে সরিয়ে তিস্তায় ড্রাগন? বেজিংয়ে গিয়ে বড় চাল চালল বাংলাদেশ!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image
ঢাকা: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড়সড় মোড়! তিস্তা নদী সংস্কার ও মহাসেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এবার সরাসরি চিনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বিদেশ সফরে বেজিংয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আর, তাঁর এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে এল বহুচর্চিত ‘তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’!বিবিসি এবং বিএসএস নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পরিকল্পনার পোশাকি নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অফ তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’। ২০১৬ সাল থেকে এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও, ২০২৬-এর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা এখন চিনকেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রধান অংশীদার হিসাবে বেছে নিতে চাইছে।২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে তিস্তা নদীর ১০২ কিলোমিটার এলাকা খনন করে গভীরতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, নদীর দু’পাড়ে ২০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে আওয়ামি লিগের সরকারের আমলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চিনের আগ্রহ থাকলেও, শেখ হাসিনা সরকার কৌশলগত কারণে ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেল।ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ৫৬টি অভিন্ন নদীর মধ্যে তিস্তা অন্যতম। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের জলবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু থাকায় এই প্রকল্প অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামি আগে থেকেই চিনকে এই প্রকল্প দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেই প্রস্তাব সরকারি রূপ পাওয়ায় দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হলো বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার পাঁচটি নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও চিন একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ভারতের ঘরের কাছে তিস্তায় চিনের এই সক্রিয় প্রবেশ দক্ষিণ এশিয়ার জল-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার