কলকাতা: রবীন্দ্র সরোবর কাণ্ড থেকে শুরু করে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ — নামটা বারবারই উঠে এসেছে শিরোনামে। তিনি বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। ইডির তল্লাশিতে তাঁর বাড়ি থেকে নগদ ২ কোটি ও বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই তিনি ‘বেপাত্তা’! এবার সোনা পাপ্পুকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য হাতে এল তদন্তকারীদের। গোয়েন্দাদের অনুমান, শুধু আত্মগোপন করাই নয়, ভিনরাজ্য থেকেই হাওয়ালার মাধ্যমে টাকাপাচার ও লেনদেন চালাচ্ছেন এই বিতর্কিত প্রভাবশালী!
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, সোনা পাপ্পু এই মুহূর্তে বাংলায় নেই। তাঁর শেষ ফেসবুক লাইভ এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দক্ষিণ ভারতের কোনও রাজ্যে নিরাপদ আস্তানা গেঁড়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ফেরার থেকেও এত টাকার জোগান তিনি পাচ্ছেন কোথা থেকে? এখানেই জোরালো হচ্ছে হাওয়ালা তত্ত্ব। গোয়েন্দারা মনে করছেন, কসবা বা বালিগঞ্জের সিন্ডিকেট থেকে তোলাবাজির টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর কাছে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে হানা দিয়ে ইডি প্রায় ২ কোটি নগদ টাকা এবং একাধিক সম্পত্তির নথি উদ্ধার করে। বালিগঞ্জের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে জমি দখল, অস্ত্র আইন এবং তোলাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। এই মামলার সূত্র ধরেই সম্প্রতি বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের নামও জড়িয়েছে।
ফেরার থাকাকালীনই একটি ভিডিয়ো বার্তায় সোনা পাপ্পুকে কলকাতা বন্দরের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। গাড়ির ভিতর থেকে করা সেই ফেসবুক লাইভে রাকেশ সিংকে ‘দুষ্কৃতী’ ও ‘তোলাবাজ’ বলে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি কোথায় ছিলেন, তা নিয়েই এখন ধন্দ কাটানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।
বিপুল পরিমাণ বেনামি সম্পত্তি এবং হাওয়ালা কারবারের এই জাল কত দূর বিস্তৃত, এখন সেটা খুঁজে বের করাই বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে।
বিষয় : BengalPolitics EDRaid sonapappu

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন