কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর টানটান উত্তেজনার অবসান! পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সিলমোহর দিল বিজেপি। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ২০৭ জন জয়ী বিধায়কের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হন তিনি। এর ফলে রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও বিজেপি নেতা মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়ে নানা জল্পনা শোনা গেলেও রাজনৈতিক মহলের কাছে তা ছিল প্রত্যাশিতও। নন্দীগ্রামের পর এবার খোদ মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে গিয়ে তাঁকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাস্ত করেছেন শুভেন্দু। একাধারে বিরোধী দলনেতা এবং অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁরই কেন্দ্রে পর্যুদস্ত করার এই বিরল কৃতিত্বই শুভেন্দুর জন্য রাজতিলকের পথ প্রশস্ত করে দিল। শাহ জানান, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিলেও অন্য কোনও নাম উঠে আসেনি।
বাংলার এবারের পালাবদল এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সঙ্কটের সাক্ষী থাকল। ভোটে হেরে যাওয়ার পরও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দেওয়ায় বুধবারই রাজ্যপাল আর এন রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাজ্যে কোনও সরকার ছিল না। এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হওয়ায় সেই প্রশাসনিক শূন্যতা কাটল। শুক্রবার রাতেই তিনি লোকভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।
আগামিকাল, ৯ মে শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও, অমিত শাহ এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবে। ২০৭টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিজেপি সরকার বাংলার উন্নয়নে নতুন কী দিশা দেখায়, এখন সেটাই দেখার।
শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শহর জুড়ে সাজো সাজো রব। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ব্রিগেড চত্বর।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন