Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘পুশব্যাক’ আতঙ্কে কাঁপছে ঢাকা! ভারত সীমান্ত ‘সিল’ করার হুঁশিয়ারি দিতেই বিজিবি-কে চরম সতর্কবার্তা বাংলাদেশের

‘পুশব্যাক’ আতঙ্কে কাঁপছে ঢাকা! ভারত সীমান্ত ‘সিল’ করার হুঁশিয়ারি দিতেই বিজিবি-কে চরম সতর্কবার্তা বাংলাদেশের
প্রতীকী ছবি

কলকাতা ও ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির অভাবনীয় জয়ের পর এবার কাঁটাতারের ওপারে শুরু হয়েছে তীব্র কম্পন। ভারতের দুই সীমান্ত রাজ্যে ‘গেরুয়া সুনামি’ আছড়ে পড়তেই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে দিল্লির কঠোর অবস্থানে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় অবৈধ বাংলাদেশি বসবাসকারীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবি জানাতেই পাল্টা বিজিবি-কে সীমান্তে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিল ঢাকা।


শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার আগেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিজিবি-কে নির্দেশ দিয়েছেন, ভারত থেকে যে কোনও ধরনের ‘পুশ-ইন’ বা জোর করে ফেরত পাঠানোর ঘটনা রুখতে সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি চালাতে। যদিও তিনি একে ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ বলছেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয় ঢাকাকে যথেষ্ট চাপে ফেলেছে।


বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল একটি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, "ভারত থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন একটি মূল ইস্যু। আমরা আশা করি বাংলাদেশ সরকার নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।" নয়াদিল্লির এই সরাসরি বার্তার পরেই ঢাকার অন্দরে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যখন ‘রাতের আঁধারের সুযোগে’ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, তখন থেকেই বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।


নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, "রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের" চিহ্নিত করে ভোটারতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।


বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাফ জানিয়েছেন, ভারতের পক্ষ থেকে জোর করে কাউকে ঠেলে দেওয়া হলে বাংলাদেশ ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নেওয়া কি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়? নয়াদিল্লির দাবি, পরিচয় যাচাই করার ক্ষেত্রে ঢাকা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে।


অসমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গও বিজেপিশাসিত রাজ্য হওয়ায় দুই রাজ্যের দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে যে বড় ধরনের তল্লাশি ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে, তা কার্যত নিশ্চিত। আর, এই ‘পুশব্যাক’ ঝড়ের আশঙ্কায় এখন থমথমে গোটা বাংলাদেশ সীমান্ত।

বিষয় : WESTBENGALELECTION NATIONALSECURITY IndiaBangladeshBorder PUSHBACKALERT

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘পুশব্যাক’ আতঙ্কে কাঁপছে ঢাকা! ভারত সীমান্ত ‘সিল’ করার হুঁশিয়ারি দিতেই বিজিবি-কে চরম সতর্কবার্তা বাংলাদেশের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা ও ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির অভাবনীয় জয়ের পর এবার কাঁটাতারের ওপারে শুরু হয়েছে তীব্র কম্পন। ভারতের দুই সীমান্ত রাজ্যে ‘গেরুয়া সুনামি’ আছড়ে পড়তেই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে দিল্লির কঠোর অবস্থানে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় অবৈধ বাংলাদেশি বসবাসকারীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবি জানাতেই পাল্টা বিজিবি-কে সীমান্তে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিল ঢাকা।শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার আগেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিজিবি-কে নির্দেশ দিয়েছেন, ভারত থেকে যে কোনও ধরনের ‘পুশ-ইন’ বা জোর করে ফেরত পাঠানোর ঘটনা রুখতে সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি চালাতে। যদিও তিনি একে ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ বলছেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয় ঢাকাকে যথেষ্ট চাপে ফেলেছে।বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল একটি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, "ভারত থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন একটি মূল ইস্যু। আমরা আশা করি বাংলাদেশ সরকার নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।" নয়াদিল্লির এই সরাসরি বার্তার পরেই ঢাকার অন্দরে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যখন ‘রাতের আঁধারের সুযোগে’ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, তখন থেকেই বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, "রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের" চিহ্নিত করে ভোটারতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাফ জানিয়েছেন, ভারতের পক্ষ থেকে জোর করে কাউকে ঠেলে দেওয়া হলে বাংলাদেশ ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নেওয়া কি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়? নয়াদিল্লির দাবি, পরিচয় যাচাই করার ক্ষেত্রে ঢাকা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে।অসমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গও বিজেপিশাসিত রাজ্য হওয়ায় দুই রাজ্যের দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে যে বড় ধরনের তল্লাশি ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে, তা কার্যত নিশ্চিত। আর, এই ‘পুশব্যাক’ ঝড়ের আশঙ্কায় এখন থমথমে গোটা বাংলাদেশ সীমান্ত।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার